কুফরীর আদেশ কারাও কুফরী #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর#

কুফরীর আদেশ কারাও কুফরী কুফরী কাজের আদেশ বা উপদেশ দেওয়া কুফরী একইভাবে কাউকে কুফরীর প্রতি উৎসাহিত করা বা কুফরী করতে বাধ্য কারাও কুফরী। #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

ইমাম নাব্বী রঃ বলেন, কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা কুফরী। এমনকি যদি কোনো কাফির মুসলিম হতে চায় এবং কোনো মুসলিমের নিকট এসে কালিমা পাঠ করাতে অনুরোধ করে আর উক্ত মুসলিম তা না করে বা তাকে ইশারা ইঙ্গিতে মুসলিম না হতে পরামর্শ দেয় বা কোনো মুসলিমকে কাফির হওয়ার ইঙ্গিত দেয় তবে উক্ত ব্যক্তি কাফির হবে। (আর রাওদা)

বাহরুর রায়েকে বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো মহিলাকে স্বামীর নিকট হতে তালাক পাওয়ার কৌশল হিসাবে কুফরী করার পরামর্শ দেয় বা কোনো মুফতি এমন ফতোয়া দেয় তবে উক্ত মহিলা কুফরী না করলেও উক্ত মুফতি কাফির হবে।

ইমাম নাব্বী রাঃ বলেন, যদি কেউ কোনো মুসলিমকে কাফির হতে বাধ্য করে তবে যে বাধ্য করলো সে কাফির হয়ে যাবে। (আর-রাওদা)

মোল্লাহ আলী ক্বারী আল-হানাফী বলেন, ফতোয়ায়ে সুগরাতে আছে একজন কাফির মুসলিম হলে অন্য একজন মুসলিম তাকে বলল, তুমি যদি মিরাছের সম্পদ পাওয়া পর্য্ন্ত ফপেক্ষা করতে। যে মুসলিম একথা বলল সে কাফির হবে।

কুফরী কাজের আদেশ-উপদেশ দেওয়ার ব্যাপারে হানাফী মাযহাবে সর্বাধিক কঠোর ফতোয়া বর্ণিত আছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রঃ বলেন, যে কুফরী কাজের আদেশ দেয় তাকে কাফির বলার ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফার মাযহাব সর্বাধিক কঠোর।(ফাতওয়া এ কুবরা)

হানাফী মাযহাবের বিভিন্ন ফিকাহ্ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো কাফির কোনো মুসলিমকে বলে আমাকে ইসলামের দীক্ষা দেন আর সে বলে আমাকে একটু চিন্তা করার সুযোগ দিন বা আগামী কাল পর্য্ন্ত সবর করুন। অথবা কোনো কাফির যদি কোনো বক্তার মজলিসে উপস্থিত হয়ে ইসলামের দীক্ষা চায় আর উক্ত বক্তা বলে সভা শেষ হওয়া পর্য্ন্ত অপেক্ষা করুন তবে সে কাফির হবে। (শারহে ফিকহে আকবার-২৭২)

ইবনে তাইমিয়া রঃ এই ফতোয়াটি উল্লেখের পর বলেন, কেননা সে কিছু সময়ের জন্য হলেও উক্ত কাফিরকে কুফরীর উপর টিকে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। (মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া)

ইমাম নাব্বী রঃ আর-রাওদাতে হানাফী ওলামায়ে কিরাম থেকে উক্ত ফতোয়া উল্লেখ করে বলেন, আমরা পূর্বে আল-মুতাওয়াল্লী হতে অনুরুপ বর্ণনা উল্লেখ করেছি। এর মাধ্যমে তিনি ঐ বর্ণনাটি উদ্দেশ্য করেছেন যা আমরা এই শিরোনামের প্রথমেই উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ এ বিষয়ে শাফেঈ মাযহাবের ওলামায়ে কিরামও একই ফতোয়া দিয়েছেন। বর্তমানে দেখা যায় প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীর বিভিন্ন সভা বা সমাবেশে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পাশা-পাশি একজন হিন্দু বা খৃষ্টান ডেকে এনে গীতা, ত্রিপিটক বা বাইবেল পাঠ করিয়ে থাকে। রাষ্ট্রের বড় পর্যায়ের কোনো ব্যক্তি অসুস্থ বা ইন্তেকাল করলে তার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ উপসনালয়ে প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। “কাউকে কুফরী করার নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া কুফরী” এ মূলনীতির আলোকে এসব কাজ স্পষ্ট কুফরী হিসেবে গণ্য।

কুফরীর আদেশ কারাও কুফরী কুফরী কাজের আদেশ বা উপদেশ দেওয়া কুফরী একইভাবে কাউকে কুফরীর প্রতি উৎসাহিত করা বা কুফরী করতে বাধ্য কারাও কুফরী। শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.