ইসলামে বস্তুবাদ এর বিধান – বর্তমান সময়ে প্রচলিত কুফরী মতবাদ সমূহ – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর

ইসলামে বস্তুবাদ এর বিধান – বর্তমান সময়ে প্রচলিত কুফরী মতবাদ সমূহ – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর এর তাওহীদ গ্রন্থ হতে সংকলন করা হয়েছে। প্রবন্ধটি পড়ুন এবং শেয়ার করুন

বস্তুবাদ দর্শনের এমন একটি মতবাদ যাতে বস্তুকে এই সৃষ্টি জগতের মূল বিষয় এবং সৃষ্টিরাজিতে ঘটমান সকল প্রকার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উৎস হিসেবে কল্পণা করা হয়। এটা এমন একটি দর্শন যাতে যে কোনো প্রকার ভাব বা আবেগকে উপেক্ষা করা হয় এবং দৃশ্যমান বস্তু ছাড়া বাস্তবে অন্য কিছুর অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়। সাধারনভাবে আমরা বস্তুবাদ বলতে যা বুঝি তা হলো, আত্মিক ও আদ্ধাত্মিক বিষয়াবীর পরিবর্তে বৈষয়িক ভোগ-বিলাশ ও ধন সম্পদকে প্রাধান্য দেওয়া। পরকালের প্রতি অবিশ্বাসী হওয়া এবং দুনিয়ার জীবনেই শেষ মনে করা। আল্লাহ বলেন, তারা কেবল দুনিয়ার দৃশ্যমান বিষয়াবলী সম্পর্কে জ্ঞান রাখে আর আখিরাতের ব্যাপারে তারা পরিপূর্ণ উদাসীনতা প্রদর্শন করে। (সুরা আর রুম-৭)

এই শ্রেণীর লোকেরা নিজেদের মনুষত্বের পরিচয় হারিয়ে ফেলে। অর্থ-সম্পদের নেশায় মাতালের মতো ছুটে বেড়ায়। অর্থ উপর্জানের ব্যাপারে হালাল-হারাম, নীতি-নৈতিকতা, ধর্ম-কর্ম ইত্যাদি কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না। এদের সম্পর্কেই রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, অর্থ-সম্পদের পূজারীরা ধ্বংস হোক। তারা যখন পায় খুশি হয়, না পেলে বেজার হয়। (সহীহ্ বুখারী)

এই সকল লোকেরা নিজেদের মনুষত্বের পরিচয় ভুলে যায়। মানুষের সাথে মানবতা, আত্মীয়তা, অতিথির আতিথেয়তা, পিতা-মাতার অধিকার, সন্তারেন স্নেহ, আল্লাহর ইবাদত, আখিরাত, জান্নাত ইত্যাদি যাবতীয় নীতি-নৈতিকতা তাদের নিকট মূন্যহীন। তারা চায় কেবল টাকা। টাকা ছাড়া তাদের জীবন ফাঁকা হয়ে যায়। টাকা উপার্জনের জন্য যে কোনো রাস্তা অবলম্বন করা এরা বৈধ মনে করে। এ বিষয়ে কোনো বাধা নিষেধ আরোপ করা হলে তারা বিভিন্ন যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপণ করে সেটার বিরোধিতা করে। যখন সুদ হারাম করা হয় তখন এই প্রকৃতির কিছু লোক বলেছিল- “বেচা-কেনা তো সুদের মতোই” (সুরা বাকারা-২৭৫) অর্থাৎ বেচা কেনা বৈধ হলে সুদ অবৈধ হয় কিভাবে? বর্তমানে দেখা যায় কিছু লোক ব্যাবসা, পেশা, রাজনীতি, রুটি-রুজি ইত্যাদির নামে বিভিন্ন বিষয়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ বলে, আমি শিল্পী, মূর্তি নির্মাণ করাই আমার কাজ, কেউ বলে আমি গায়ক গান-বাজনাই আমার পেশা। অন্য আরেকদল বলে, আমরা রাজনীতি করি, মসজিদ, মন্দির সব জায়গায় আমাদের যেতে হয়। এভাবে তারা নিজেদের এই সব বিষয়কে বৈধ প্রমানের চেষ্টা করে। তারা দাবী করে, যেহেতু এই সকল কাজ তাদের পেশা তাই এতে লিপ্ত হওয়া তাদের জন্য দোষনীয় নয়।

আখিরাতের জীবন ও জান্নাতের সুখ-শান্তি সম্পর্কে তাদের মন্তব্য হলো,

দূরের বাদ্য কি লাভ শুনে – মাঝখানে তার বেজায় ফাঁক

নগদ যা পাও হাত পেতে নাও – বাকীর খাতায় শূন্য থাক।

সন্দেহ নেই যে, সাধারভাবে টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত ইত্যাদি দুনিয়াবী বস্তুর সন্ধানে ব্যস্ত হওয়া বা হালাল-হারাম যে কোনো পন্থায় তা হাসিলের জন্য স্বচেষ্ট হওয়া শিরক-কুফর নয় তবে বস্তুর আকর্ষণে আখিরাতকে অস্বীকার করা বা কোনো হারামকে হালাল মনে করা নিশ্চয় কুফরী। বলাবাহুল্য যে, বস্তুবাদের অত্যাধিক প্রচার-প্রসারের ফলে এধরণের কুফরী চিন্তু-চেতনাই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। একারণে সামগ্রিকভাবে বস্তুবাদকে একটি কুফরী মতবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

ইসলামে বস্তুবাদ এর বিধান

Leave a Reply

Your email address will not be published.