আল্লাহর আকৃতি সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির

আল্লাহর আকৃতি সম্পর্কে আক্বীদা আল্লাহর আকার-আকৃতির ব্যাপারে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির# এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

পূর্বের পোষ্টে ইমাম খাত্তাবী রঃ থেকে বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহর ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে এবং অকাট্যভাবে প্রমাণিত সহীহ্ সুন্নাতে উল্লেখ নেই এমন কোনো গুণ ও বৈশিষ্ট্র দাবী করা জাবে না। পবিত্র কুরআনের কোথাও আল্লাহর ব্যাপারে সুরাত তথা আকার-আকৃতির কথা বলা হয়নি। হাদীসে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে যেখানে আল্লাহ সম্পর্কে আকার-আকৃতির কথা বলা হয়েছে তবে তার একটিকেও আকার আকৃতি অর্থে গ্রহণ করা যায় না।

একটি হাদীসে বলা হয়েছে,

তোমাদের কেউ যখন অন্য কাউকে প্রহার করে তখন তার চেহারার উপর আঘাত করা হতে যেনো বিরত থাকে কেননা আল্লাহ আদম আঃ কে সৃষ্টি করেছেন তার নিজ আকৃতিতে। (মুসলিম)

অন্য একটি বর্ণনাতে এসেছে আদম আঃ কে সৃষ্টি করা হয়েছে রহমানের (আল্লাহর) আকৃতিতে। ইমাম নাব্বী এই হাদীসটি সম্পর্কে বলেন,মুহাদ্দীসদের নিকট এই হাদীস প্রমাণিত নয় ।(শারহে মুসলিম)

উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, এখানে তার নিজ আকৃতিতে বলতে আল্লাহর নিজ আকৃতি নয় বরং আদম আঃ এর নিজ আকৃতি বোঝানো হয়েছে। (শারহে মুসলিম)

এছাড়া বিষয়টির অন্যান্য বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

এই হাদীসের এধরণের ব্যাখ্যা করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, এখানে আল্লাহর আকৃতিতে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু এটা ঐ আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক যেখানে বলা হয়েছে, “কোনো কিছুই তার মতো নয়”।

সহীহ্ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দ্বীন আল্লাহ তায়ালা একটি ভিন্ন আকৃতিতে মুসলিমদের সামনে হাজির হয়ে বলবেন, আমি তোমাদের রব। তারা বলবে আপনি আমাদের রব নহেন। আমরা আমাদের রবের নিকট আপনার নিকট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হাদীসে বলা হয়েছে,

এরপর আল্লাহ তায়ালা এমন একটি আকৃতিতে আসবেন যা তারা চেনে।

এই হাদীসটিতে ব্যবহৃত সুরাত শব্দটিকে আকৃতি অর্থে গ্রহণ করা এবং তা আল্লাহর ব্যাপারে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। যেহেতু তাতে প্রমাণিত হবে আল্লাহ নিজের আকৃতি পরিবর্তন করেন এবং একবার পরিচিত ও অন্য আরেকবার অপরিচিত আকৃতি ধারন করেন। অর্থাৎ একবার স্বীয় আকৃতির মধ্যে এমন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করেন যা পূর্বে ছিল না। এধরনের পরিবর্তন ও সংযোজন থেকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র।

তিরমিযী বর্ণিত অন্য একটি হাদীসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন,

আমি ঘুমিয়ে পড়লাম এমনকি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলাম তখন আমার রবকে একটি সুন্দর আকৃতিতে দেখতে পেলাম। (ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়েখ আলাবানী হাদীসটিকে সহীহ্ বলেছেন(তিরমিযী)

এই হাদীসে ব্যবহৃত আকৃতি শব্দটি বাস্তবে আল্লাহর সিফাত হিসেবে প্রয়োগ করা যাবে না কারণ স্বপ্নে মানুষ যা কিছু দেখে সেটা উপমা হিসেবে দেখে থাকে বাস্তবতা হিসেবে নয়। উদাহরণ স্বরুপ ইউসূফ আঃ চাঁদ সূর্য্ ও তারকারাজিকে তার উদ্দেশ্যে সাজদা করতে দেখেন কিন্তু বাস্তবে তার অর্থ হলো তার পিতা-মাতা ও ভ্রাতারা তার উদ্দেশ্যে সাজদা করবে প্রকৃতই চাঁদ সূর্য্ নয়। উহুদ যুদ্ধের পূর্বে রসুলুল্লাহ সাঃ স্বপ্নে একটি তরবারি দেখেন তার একটি স্থান ভেঙ্গে গিয়েছিল। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন, আমার আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ একজন এই যুদ্ধে নিহত হবে। পরে হামযা রাঃ নিহত হন। তরবারি ভেঙ্গে যাওয়া দেখে তিনি একজন ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর দেন। তিনি এমন বলেন নি যে, এই যুদ্ধে আমার তরবারি ভেঙ্গে যাবে। কারণ স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবতার সাথে মিল রাখেনা বরং স্বপ্ন আসে উপমার ভঙ্গিতে এবং সেটা বুঝে নিতে হয়। একারণে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে অভিজ্ঞ লোক প্রয়োজন হয়।

ইমাম নাব্বী বলেন, কাজি ইয়াদ রঃ বলেছেন, আলেমরা একমত হয়েছেন যে, আল্লাহকে স্বপ্নে দেখা সম্ভব। যদিও কেউ তাকে এমনভাবে দেখে যেটা তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয় যেমন হয়তো তাকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শারিরিক বৈশিষ্ট্যে দেখে (তবু সমস্যা নেই) কারণ স্বপ্নে যা দেখা যাচ্ছে সেটিই বাস্তবে মহান রব নন(বরং এটা উপমা)। (শারহে মুসলিম)

মোট কথা, স্বপ্নে আল্লাহ তায়ালাকে কোনো একটি আকৃতিতে দর্শন করলে বাস্তবে তার ঐ ধরণের আকৃতি রয়েছে এমন মনে করা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয়।

এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, কুরআন হাদীসে আল্লাহ তায়ালা এর সুরাত বা আকৃতি থাকার পক্ষে স্পষ্ট ও অকাট্য কিছুই পাওয়া যায় নি। যেসব হাদীসে আকৃতি শব্দটি এসেছে সেখানে আল্লাহর আকৃতি প্রমাণ করা হলে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। একারণে কোনো অর্থেই আল্লাহর আকৃতি আছে এমন মনে করা সঠিক আক্বীদা নয়।

অনেকে বলে, আল্লাহকে আখিরাতে মুমিনরা দেখতে পাবে। নিশ্চয় তার কোনো আকৃতি আছে তা না হলে দেখা যাবে কীভাবে? কেউ কেউ আল্লাহর চেহারা সম্পর্কে যেসব আয়াত এসেছে সেগুলো সুরাত বা আকৃতির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। আমরা পূর্বেই বলেছি এধরনের অপচেষ্টা স্পষ্ট নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছু নয়। যাকে দেখা যায় তার আকৃতি থাকা লাগবে এমন মন্তব্য মূলত সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্রষ্টার ক্ষেত্রেও যে এটা প্রয়োগ করার চেষ্টা করে সে আসলে সৃষ্টির সাথে স্রষ্টাকে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করে। আর বলা বাহুল্য যে এটা মুজাসসিমাদের আক্বীদা ছাড়া কিছু নয়। একইভাবে পবিরত্র কুরআনে এবং সহীহ্ সুন্নাতে আল্লাহর ব্যাপারে যতটুকু বলা হয়েছে তার বাইরে এক চুল পরিমান বৃদ্ধি করা যাবে না। হাতের কথা বলা হয়েছে কিন্তু তার সাথে হাতের নোখ যুক্ত করা যাবে না একইভাবে চেহারার কথা বলা হয়েছে তার সাথে শরীর বা আকৃতি যুক্ত করা যাবে না। বরং হয়তো এসব ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যাবে না অথবা যদি ব্যাখ্যা করতেই হয় তবে যতটুকু উল্লেখ আছে কেবল তার ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে তার বাইরে কিছুই বলা যাবে না।

আকৃতির বিষয়টি হাত বা চেহারা ও চোখের মতো নয় কারণ এগুলো পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে তাই পূর্বে উল্লেখিত শর্ত সাপেক্ষে এগুলো আল্লাহর ব্যাপারে প্রয়োগ করা যায়। যেমন আল্লাহর হাত আছে তাই পূর্বে উল্লেখিত শর্ত সাপেক্ষে এগুলো আল্লাহর ব্যাপারে প্রয়োগ করা যায়। যেমন আল্লাহর হাত আছে কিন্তু সৃষ্টির হাতের মতো নয়, আল্লাহর চোখ বা চেহারা আছে কিন্তু তা সৃষ্টির মতো নয় ইত্যাদি। আকৃতি শব্দটি সেভাবে প্রমাণিত নয় তাই কোনো শর্তের আলোকেই আল্লাহর আকৃতি আছে এমন বলা যাবে না। এমন কি “আল্লাহর আকৃতি আছে কিন্তু তা অন্যান্য সৃষ্টির আকৃতির মতো নয়” এমন কথা বলাও সঙ্গত নয়।

আদম আঃ কে সৃষ্টি করা সংক্রান্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম নাব্বী রঃ আল মারিযী রঃ থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে কুতাইবা এই হাদীসের অর্থের ব্যাপারে ভ্রান্তির শিকার হয়েছে। সে হাদীসটিকে প্রকাশ্য অর্থে গ্রহণ করেছে। সে বলেছে, আল্লাহর আকৃতি রয়েছে তবে তা অন্যদের আকৃতির মতো নয়। তার এই কথাটি স্পষ্ট ভ্রান্ত কথা। কেননা আকৃতি বলতেই একটি গঠনকে বোঝায় আর গঠিত হওয়া সৃষ্টির বৈশষ্ট্য। কিন্তু আল্লাহ সৃষ্ট নন অতএব তার কোন গঠন নেই বা আকৃতি নেই। তিনি (আল-মারিযী এও বলেছেন যে, এটা মুজাসসিমাদের কথার মতো যেহেতু তারা বলে আল্লাহর দেহ রয়েছে তবে তা অন্যদের দেহের মতো নয়। (শারহে মুসলিম)

তিনি (আল-মারিযী) আরো বলেন,

ইবনে কুতাইবার কথায় আমি অবাক হয়। তিনি বলছেন, “আল্লাহর আকৃতি আছে কিন্তু তা অন্যদের আকৃতির মতো নয়”। অথচ হাদীসটিকে যদি তার মতে প্রকাশ্য অর্থেই গ্রহণ করা হয় তবে তাতে প্রমাণিত হয় যে, আদম আঃ কে আল্লাহর আকৃতিতেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে তা আল্লাহর আকৃতি ও অন্যদের আকৃতি একই হয়ে গেল! কিন্তু তিনি বলছেন, তার আকৃতি অন্যদের মতো নয় তবে তো তার কথা সাংঘার্ষিক হয়ে গেল। (শারহে মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা এর দুরকম আকৃতিতে প্রকাশিত হওয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসটির ব্যাখ্যায় আব্দুর রহমান আল-জাওযী রঃ বলেন, এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় কিছু লোক বিভ্রান্ত হয়েছে। পূর্ববর্তী সালফে সালেহীনরা এইসব হাদীস পাঠ করতেন এবং অতিক্রম করে চলে যেতেন। তারা এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতেন না। তবে তারা দৃঢ়ভাবে এটা বিশ্বস করতেন যে, সুরাত (আকৃতি) হলো একটি নির্দিষ্ট গঠন ও রুপরেখা যা আল্লাহর ক্ষেত্রে সঙ্গত নয় একইভাবে তার বৈশিষ্ট্যে কোনোরুপ পরিবর্তন ঘটাও সম্ভব নয়। এদুটি বিষয় এমন দুটি মূলনীতি যা আবশ্যভাবে বিশ্বাস করতে হবে। কেননা নির্দিষ্ট গঠন ও ‍রুপরেখা কেবল তার থাকতে পারে যার দেহ রয়েছে এবং যিনি ইলাহ তার বৈশিষ্ট্যে কোনোরুপ পরিবর্তন সাধিত হতে পারে না।

এরপর তিনি বলেন,

যে ব্যক্তি এই দুটি বিষয় নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস স্থাপণ করবে এবং নিরব থাকবে সে পূর্ববর্তী সালফে সালেহীনদের পথ অনুসরণ করলো।

এরপর তিনি এ হাদিসটির (যে হাদীসে বলা হয়েছে, হাশরের ময়দানে দুটি ভিন্ন আকৃতিতে আল্লাহ আগমন করবেন) বিভিন্ন ব্যাখ্যা বর্ণনা করেন এবং এক পর্যায়ে বলেন, (যেহেতু আল্লাহর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে না) একারণে আমরা এই হাদীসটির সুরাত শব্দটিকে এমন একটি ব্যাখ্যা বর্ণনা করতে বাধ্য হই যা আল্লাহর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় সেই সাথে পরিবর্তিত হওয়া এবং একবার অপরিচিত ও অন্যবার পরিচিত হওয়া সম্ভব হয়। আর সেই ব্যাখ্যাটি হলো সুরত শব্দটিকে অবস্থা অর্থে গ্রহণ করা। আরবী ভাষাভাষি লোকেরা সুরত শব্দটি এ অর্থে ব্যাবহার করে থাকেন। তারা বলেন, অমুকের সাথে তোমার সুরত কেমন? (অর্থাৎ তার সাথে তোমার সম্পর্ক, সদ্ভাদ ইত্যাদির অবস্থা কেমন)। অমুক দরিদ্র সুরতে (দরিদ্র অবস্থায়) আছে। (কাশফুল মুশকিল)

অর্থাৎ দ্বিতীয়বার এমন পরিবেশ ও পারিপার্র্শিক অবস্থার মধ্যে আল্লাহ প্রকাশিত হবেন যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে যে আসলে মহাবিশ্বের প্রতিপালক প্রকাশিত হয়েছেন। এই পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাকেই বলা হয়েছে সুরত। সুরত এখানে আকৃতি অর্থে নয়।

ইবনে জাওজী রঃ আরো বলেন,

মুজাসসিমাদের মত অনুযায়ী যদি এখানে আকৃতিকে আল্লাহর স্বত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয় (নাউযু বিল্লাহ) তবে এর মাধ্যমে তার বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তিত হয় এমন প্রমাণিত হবে (যেহেতু এখানে দুই বারে দুরকম আকৃতিতে প্রকাশিত হয়েছেন এমন বলা হয়েছে)। যদি বলা হয় আল্লাহ বাস্তবেই আকৃতি ধারন করেছেন তবে তা সম্ভব নয়। আর যদি বলা হয় যারা দেখছিল তাদের নিকট এমন মনে হয়েছিল তবে তো সেটা বাস্তবে আল্লাহর আকৃতি নয় বরং তিনি অন্য কিছু দেখিয়েছেন। ঐ সকল লোকদের এসব মুর্খতাসূলভ কথা-বার্তা কত নিকৃষ্ট যারা বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসের বাহ্যিক অর্থের উপর নির্ভর করে যেভাবে খৃষ্টানরা বিশ্বাস করে যে, ঈসা আঃ বাস্তবেই আল্লাহর রুহ (প্রাণ)। (অর্থাৎ তিনিই আল্লাহ)। (কাশফুল মুশকিল)।

বদরুদ্দিন আইনী রঃ ইবনে কুতাইবার মতটি বর্ণনাপূর্বক বলেন, সে আকৃতিকে আল্লাহর জন্য অনাদি-অনন্ত কাল হতে বিরাজমান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইবনে ফাওরাক বলেন, এ কথা যে বলে তার মুর্খতাই প্রমাণিত হয়( উমদাতুল ক্বারী)

ইবনে বাত্তাল রঃ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় এই হাদীস প্রসঙ্গে বলেন,

এই হাদীসের ব্যাপারে মুজাসসিমারা বিভ্রান্ত হয়েছে। তারা বলেছে আল্লাহর আকৃতি রয়েছে। এই হাদীসে তাদের পক্ষে কোনো দলিল নেই।

এরপর তিনি এখানে সুরাত শব্দটির উপরে বর্ণিত অর্থসমূহ উল্লেখ করেছেন।

মোট কথা, যারা বলে আল্লাহর আকৃতি আছে ওলামায়ে কিরাম তাদের ভীষণভাবে তিরস্কার করেছেন এবং এই আক্বীদাটি মুজাসসিমাদের আক্বীদা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অতএব মুসলিমদের এ ধরণের বিভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে যথেষ্ট্য পরিমান সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আল্লাহর আকৃতি সম্পর্কে আক্বীদা আল্লাহর আকার-আকৃতির ব্যাপারে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির# এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। এবংআল্লাহর আকৃতি সম্পর্কে আক্বীদা প্রবন্ধটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.