বিদয়াতের সংজ্ঞা ও বিধান – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল ‍মুনির

বিদয়াতের সংজ্ঞা ও বিধান – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর বিদয়াতে দ্বলালা নামক প্রশিদ্ধ গ্রন্থ হতে নেয়া হয়েছে।

উপরে বর্ণিত জটিলতা ও অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সর্বাগ্রে যে বিষয়টি জরুরী তা হলো বিদয়াত শব্দের সঠিক অর্থ নির্ণয় করা। এ বিষয়টির সমাধান করা গেলে সকল বিতর্ক নিরসন হবে ইনশাআল্লাহ। প্রথমেই আমরা বিদয়াত শব্দটির প্রচলিত অর্থ নিয়ে কথা বলবো। আমরা দেখবো, বর্তমানে যারা বিদয়াত সম্পর্কে আলোচনা করেন তারা বিদয়াত বলতে কি বোঝেন। এরপর বিদয়াতের প্রচলিত অর্থের মধ্যে যেসব অসঙ্গতি আছে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করবো। পরিশেষে বিদয়াত শব্দটির সঠিক অর্থ নির্ণয় করার মাধ্যমে আমাদের এ অধ্যায়ের আলোচনা শেষ হবে। আর আল্লহই তাওফিকদাতা। বর্তমান সময়ে যারা বিদয়াত নিয়ে আলোচনা বা লেখালেখি করেন বিদয়াতের সংজ্ঞায় তারা বলেন,

বিদয়াত হলো দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নতুন সৃষ্টি করা যা রসুলুল্লাহ সাঃ এবং তার সাহাবায়ে কিরাম করেন নি বা করতে বলেন নি।

শায়েখ বিন বায বলেন,

যা কিছু রসুলুল্লহা সাঃ তার সাহাবায়ে কিরাম করেন নি। রসুলুল্লাহ সাঃ যে ব্যাপারে নির্দেশও দেন নি বরং মানুষ সেটা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করেছে তাই বিদয়াত। (ফাতওয়া নুর আলদ্ দরব)

শায়েখ সলিহ আল মুনজিদ রসুলুল্লাহ সাঃ এর বাণী “যে কেউ এমন কোনো আমল করে যে বিষয়ে আমার নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত” এটা উল্লেখ করে বলেন,

এর মাধ্যমে বোঝা যায় রসুলুল্লাহ সাঃ থেকে কথা বা কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত নয় এবং সাহাবায়ে কিরাম যে কাজ করেন নি অথচ ভাল কাজে তারাই ছিলেন অগ্রগামী ও সর্বাপেক্ষা বেশি আগ্রহী ঐ কাজের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা নিকৃষ্ট বিদয়াত। (ফাতাওয়ে ইসলাম সুয়াল ও জাওয়াব)

অন্যান্য সালফী ওলামায়ে কিরাম অনুরুপ ফতোয়া প্রদান করেছেন। সাধারন মানুষের মধ্যে বিদয়াতের এই সংজ্ঞাটির ব্যাপক প্রচার-প্রসার রয়েছে। কাউকে কোনো কাজ করতে দেখলেই মানুষ এখন প্রশ্ন করে- এটা কি রসুলের যুগে ছিল? সাহাবায়ে কিরাম কি এটা করেছেন? “রসুলুল্লাহ সাঃ ও সাহাবায়ে কিরাম যা করেন নি তা করা বিদয়াত” এই মূলনীতির উপর নির্ভর করে এমন অনেক কাজকে বিদয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করে নিন্দা করা হয় যা নিজ কানে না ‍শুনলে বিশ্বাস করা যায় না।

উদাহরণস্বরুপ একদল লোক বলছে, পবিত্র কুরআনে চুম্বন করা বিদয়াত। যেহেতু রসুলুল্লাহ সাঃ বা সাহাবায়ে কিরাম থেকে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। “পবিত্র কুরআন কিভাবে তাফসীর করা উচিৎ” নামক একটি কিতাবে শায়েখ আলবানী একথা বলেছেন। ইমাম শাতেবী আল’ইতিসামে জুময়ার খুতবায় খোলাফায়ে রাশেদার জন্য দোয়া প্রার্থনা করা বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেহেতু সাহাবায়ে কিরামের যুগে এটার প্রচলন ছিল না। এরই ধারাবাহিকতায় কেউ কেউ কুরআন শরীফ বলা বিদয়াত বলছেন যেহেতু কুরআন-হাদীসের কোথাও কুরআন শারীফ বলা হয়নি বরং কুরআন কারীম বা কুরআন মাজিদ বলা হয়েছে। একইভাবে ঈদুল আজহা বা ইদুল ফিতরে ঈদ মোবারক বলাও বিদয়াত। কোথাও আল্লাহ ও মুহাম্মাদ পাশা-পাশি লেখা বিদয়াত শুধু আল্লাহ লেখাও বিদয়াত। এক কথায় দ্বীনী কোনো কাজ করলেই সেটা কোন না কোন দিক থেকে বিদয়াত হয়ে যাবে অতএব বিদয়াত থেকে বাঁচার একটা সহজ উপায় হলো যতদূর সম্ভব দ্বীনী কাজ হতে বিরত থাকা এবং গান-বাজনা ও নাচা-নাচিতে মনোনিবেশ করা।

এই ধরনের গোলোযোগই স্পষ্ট করে যে উপরোক্ত সংজ্ঞাটিতে কোনো গোলমাল রয়েছে। এখন আমরা সেই গোলমালটিই খুঁজে বের করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। প্রথমেই আমরা সংজ্ঞাটির মূলভাবের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করবো। সংজ্ঞাটিতে বলা হচ্ছে, “আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করা যা রসুলুল্লাহ সাঃ বা তার সাহাবায়ে কিরাম করেন নি।”
চিন্তা করলে দেখা যাবে সংজ্ঞাটির দুটি স্থানে অস্পষ্টতা রয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু অনুপ্রবেশ করানো বিদয়াত। নতুন কিছু বলতে বোঝানো হচ্ছে আল্লাহর রসুল বা তার সাহাবারা করেন নি এমন কিছু। ‘দ্বীনের মধ্যে’ কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে দ্বীনের বাইরে নতুন কিছু করাতে কোনো দোষ নেই। এখন এই সংজ্ঞাটির উপর বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। নিচের আলোচনাতে আমরা সেসব প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন…..

বিদয়াতের সংজ্ঞা ও বিধান বিদয়াতের সংজ্ঞা ও বিধান বিদয়াতের সংজ্ঞা ও বিধান

Leave a Reply

Your email address will not be published.