শিরক-কুফরের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির

ঈমান ভঙ্গের চতুর্থ কারণ তথা শিরক-কুফরের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করার বিধান শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর গবেষণা মুলক প্রবন্ধটি পড়ুন এবং আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।

শিরক-কুফরের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা অর্থ হলো, একজন মুমিনের অন্তরে শিরক-কুফরের প্রতি যতটা ঘৃণা উপস্থিত থাকা স্বাভাবিক কারো অন্তরে সেটা অনুপস্থিত থাকার ফলে কুফরীর সহজভাবে গ্রহণ করা, কুফরীর প্রতি সহনশীল হওয়া বা কুফরীর প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান প্রকাশ করা, কুফরী কাজে লিপ্ত হওয়ার আশা বা আকাঙ্খা প্রকাশ করা ইত্যাদি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তোমাদের অন্তরে তা সাজিয়ে দিয়েছেন আর তোমাদের নিকট অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন কুফর ফিসক ও পাপ কাজকে। এরাই সঠিক পথ প্রাপ্ত। (সুরা হুজরাত-৭)

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, “তিনটি বিষয় যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের স্বাদ পাবে”। এরপর তিনি উক্ত তিনটি বিষয় বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে, “সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেমন অপছন্দ করে তেমনি হেদায়েত পাওয়ার পর পুনরায় কুফরীতে লিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করবে। (বুখারী ও মুসলিম)

এছাড়া বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসে শিরক-কুফরকে সর্বনিকৃষ্ট কাজ এবং কাফির-মুশরিকদের সর্বনিকৃষ্ট জীব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিপরীত দিকে ঈমান ও ইসলামকে সর্বোৎকৃষ্ট কর্ম এবং মুমিনদের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে কাফির-মুশরিক ও তাদের যাবতীয় কর্মকান্ডকে ঘৃণাভরে প্রত্যাক্ষান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ রয়েছে ইব্রাহীম ও তার সঙ্গীদের মাঝে যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেছিল আমরা তোমাদের থেকে এবং তোমরা যা কিছুর উপসানা করো তা হতে বিচ্ছিন্ন। আমরা তোমাদের মানি না। তোমাদের সাথে আমাদের শত্রুতা ও ঘৃণা-বিদ্বেষ শুরু হয়ে গেল তোমরা এক আল্লাহ্ তে বিশ্বাসী না হওয়া পর্যন্ত। (সুরা মুমতাহিনা-৪)

সুতরাং কুফরীকে ঘৃণা করা প্রতিটি ঈমানদারের একটি অনিবার্য গুণ। যে শিরক-কুফরকে ঘৃণা করে না বরং পছন্দ করে এবং অবলিলায় শিরক-কুফরের সাথে মাখা-মাখি করে, শিরক-কুফরের প্রচার-প্রসার কামনা করে তার ঈমান টিকে থাকতে পারে না। এ বিষয়টিকেই ওলামায়ে কিরাম “আর-রিদা বিল-কুফরি কুফর” “কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করাও কুফরী”- এভাবে বর্ণনা করেছেন। চার মাযহাবের ওলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত বর্ণান করেছেন। মালেকী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ্ ইমাম কুরতুবী তার তাফসীরে, মালেকী মাযহাবের ফিকাহ্ গ্রন্থ আল-খারাশী কৃত মুখতাসারুল খলীল এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে, শাফেঈ মাযহাবের ফিকাহগ্রন্থ ইমাম নাব্বী কৃত রওদাতুত তালেবীন এবং ইবনে হাযার হাইতামী কৃত তুহফাতুল মুহতাজ নামক কিতাবে, তাছাড়া ইবনে হাযার হাইতামী কৃত অমর গ্রন্থ আল-ই’লাম বিকওয়াতিইল ইসলাম নামক কিতাবে, হানাফী মাযহাবের ফিকাহ্ গ্রন্থ কানযুদ্ দাকাইকের দুটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ বাহরুর রায়েক ও তাবইনুল হাকাইক নামক কিতাবে, তাছাড়া মাজমাউল আনহার ও ইবনে আবদীন কৃত রদ্দে মুহতারে এবং হাম্বালী মাযহাবের ইবনে মুফলিহ্ কৃত আল-ফুরু’ নামক কিতাব সহ বিভিন্ন গ্রন্থে এই মূলনীতিটি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মুফলিহ্ রঃ আল-ফুরু নামক কিতাবে বলেন, কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করাও কুফরী এ ব্যাপারে ইজমা সম্পাদিত হয়েছে।

আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, তবে কুফরীর ব্যাপারে যার অন্তর প্রশস্ত হয় তার উপর আল্লাহর গজব এবংভীষণ শাস্তি। (সূরা নাহল-১০৬)

ঈমান ভঙ্গের চতুর্থ কারণ তথা শিরক-কুফরের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করার বিধান শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর গবেষণা মুলক প্রবন্ধটি পড়ুন এবং আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.