যদি কেউ বলে, আমি গায়েব জানি বা অমুক গায়েব জানে তবে সে কাফির হবে কিনা – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর

যদি কেউ বলে, আমি গায়েব জানি বা অমুক গায়েব জানে তবে সে কাফির হবে কিনা – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।

হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ্ ইবনে আবেদীন রঃ বলেন,

গায়েবের জ্ঞান দাবী করা আল্লাহর কথা(আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না) এর সাথে সাংঘর্ষিক তাই এটা কুফরী হবে। তবে যদি স্পষ্টভাবে বা আকারে ইঙ্গিতে এমন বোঝাতে চায় যে, ওহী বা ইলহামের মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বা প্রকৃতিতে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মনীতির আলোকে বিষয়টি জানা গেছে তবে এটা কুফরী হবে ন। (দুররুল মুখতার)

ইমাম নাব্বী রঃ আর-রাওদা তে হানাফী মাযহাবের ওলামায়ে কিরাম হতে উল্লেখ করেছেন তারা বলেছেন, যদি কাউকে বলা হয় তুমি কি গায়েব জানো আর সে বলে হ্যাঁ তবে সে কাফির হবে।

ইমাম নাব্বী রঃ একথা উল্লেখের পর বলেছেন, এতে কাফির না হওয়ার মতটিই সঠিক। শাফেঈ মাযহাবের বেশিরভাগ ওলামায়ে কিরাম বিষয়টিকে কুফরী হিসেবে গণ্য করেন নি।

ইবনে হাযার হাইতামী রঃ এ বিষয়টির সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গায়েব জানো না এর অর্থ হলো সামগ্রিক ও সাম্যকভাবে কেউ গায়েবের ব্যাপারে অবগত নয়। তবে কিছু কিছু ব্যাপারে নবী-রাসুল ও ওলী-আওলিয়াদের জ্ঞান দেওয়া হয়। অতএব, যে ব্যক্তি কোনো একটি বা কয়েকটি বিষয়ে গায়েবের জ্ঞান দাবী করে সে কাফির হবে না কিন্তু যে সকল বিষয়ে গায়েব জানার দাবী করবে সে কাফির হবে। এখন যে বলে, আমি গায়েব জানি তার এই কথাটির দু’রকম অর্থ হতে পারে।

এক. আমি সকল বিষয়ে গায়েব জানি।

দুই. আমি কোনো কোনো বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে গায়েব সম্পর্কে জানতে পারি।

যদি প্রথম অর্থ গ্রহণ করা হয় তবে কথাটি কুফরী প্রমাণিত হয় যেহেতু এটা আল্লাহর বাণী, “আল্লাহ্ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না” এর বিরুদ্ধে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করা হলে কথাটি কুফরী বলা যায় না যেহেতু দু-একটি বিষয়ে গায়েব জানা অসম্ভব নয়।

অবশেষে তিনি বলেন, “আমি গায়েব জানি” কথাটি যেহেতু দু রকম সম্ভবনাই রাখে তাই ইমাম নাব্বী রঃ এটাকে কুফরী হিসেবে গণ্য করেন নি। এবং এটাকে কুফরী হিসেবে গণ্য না করাই সঠিক।

হানাফী মাযহাবের ওলামায়ে কিরামের নিকটও এ মত স্বীকৃত যে, যদি কোনো একটি কথার মাধ্যমে দু রকম অর্থ বুঝে আসে যার একটি কুফরী প্রমান করে অন্যটি করে না তবে কুফরী না হওয়ার অর্থটিকেই প্রাধান্য দিতে হবে যেহেতু স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মুসলিমকে কাফির বলা যায় না।

হানাফী মাযহাবের বিভিন্ন ফিকাহ্ গ্রন্থে এসেছে,

যদি একটি মাসয়ালায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে কুফরী প্রামাণিত হয় কিন্তু একটি দৃষ্টিকোন থেকে কাফির না হওয়া প্রমাণিত হয় তবে আলেমের উচিৎ যাতে কাফির প্রমাণিত না হয় সেই দৃষ্টিভঙ্গিটি গ্রহণ করা। মুসলিমদের ব্যাপারে সুধারনা রাখার জন্যই এমনটি করতে হবে। (বাহ্রুর রায়েক, দুররুল মুখতার ইত্যাদি)

অতএব এই মাসয়ালার উপর নির্ভর করে কাউকে কাফির না বলাই সঠিক মত।

যদি কেউ বলে “রসূল গায়েব জানেন” বা অমুক পীর গায়েব জানে তবে তার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। অর্থাৎ তাকে প্রথমেই কাফির বলা হবে না বরং লক্ষ করতে হবে সে কি ধরনের গায়েব জানার কথা বলছে। যদি তার উদ্দেশ্য হয় সামগ্রিকভাবে গায়েবের জ্ঞান রাখা তবে এটা কুফরী হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এ ধরণের সন্দেহমূলক কথা-বার্তা পরিহার করতে হবে যেহেতু এর একটি ভ্রান্ত অর্থও রয়েছে বরং ভ্রান্ত অর্থটিই বেশি প্রকাশ্য। একারণে আয়েশা রাঃ বলেছেন,

যদি কেউ তোমাকে বলে রসুলুল্লাহ সাঃ গায়েব জানতেন তবে সে মিথ্যাবাদি কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না। (সহীহুল বুখারী)

কোনো একটি উৎসবে কিছু অল্প বয়স্কা মেয়ে সঙ্গীতের সূরে রসুলুল্লাহ সাঃ এর বিভিন্ন গুনাবলী তুলে ধরছিল। এক পর্যায়ে তারা বলে, “আমাদের মধ্যে একজন নবী রয়েছেন যিনি আগামীকাল কি ঘটবে তা জনেন।” রসুলুল্লাহ সাঃ তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “এটা বাদ দিয়ে আর যা কিছু বলছিলে বলতে থাকো। (আবুদাউদ- ইমাম তিরমিযী বলেছেন হাদীসটি হাসান সহীহ। শায়েখ আলবানীও সহীহ্ বলেছেন।

যদি কেউ বলে, আমি গায়েব জানি বা অমুক গায়েব জানে তবে সে কাফির হবে কিনা – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.