মৃত ব্যাক্তির নিকট নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার বিধান-শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর

মৃত ব্যাক্তির নিকট নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার বিধান –শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর। দোয়া চাওয়ার বিধান প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।

এটা হলো কবরের নিকটে গমন করে নিজের জন্য দোয়া করা সম্পর্কে। অনুরুপভাবে মৃত ব্যক্তির নিকট নিজের জন্য দোয়াা চাওয়ার ব্যাপারেও বেশিরভাগ ওলামায়ে কিরামের মতামত রয়েছে।

ইমাম নাব্বাী রঃ রসূলুল্লাহ সাঃ এর কবরের নিকট নিজের জন্য দোয়া করার পরামর্শ দিয়ে বলেন,

এখানে উত্তম একটি দোয়া রয়েছে যা আমদের মাযহাবের ওলামায়ে-কিরাম বর্ণনা করেছেন এবং পছন্দ করেছেন। আল-উতবী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাঃ এর কবরের নিকট বসে ছিলাম এমন সময় একজন গ্রাম্য লোক আগমন করে বলে, হে আল্লাহর রসূল আপনার উপর সালাম। আমি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি তিনি বলেছেন, “যখন তারা অন্যায় করে তখন যদি আপনার নিকট এসে নিজেদের জন্য ক্ষমা চায় এবং আপনি তাদের জন্য ক্ষমা চান তবে আল্লাহ তাদের উপর অনুগ্রহ করতেন” (সুরা নিসা-৬৪) আমি তো আপনার নিকট  এসেছি আমার গোনা সমূহের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমা চাইতে এবং আপনার মাধ্যমে আমার রবের নিকট সুপরিশ করতে।

আল-ইতবী বলেন, এরপর উক্ত গ্রাম্য ব্যাক্তি চলে গেলে আমার হালকা নিদ্রা আসে তখন আমি রসূলুল্লাহ্ সাঃ কে স্বপ্নে খেলাম। তিনি আমকে বললেন, উক্ত গ্রাম্য ব্যক্তির নিকট যাও এবং তাকে বলো যে, তোমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। (আল-ইদাহ্)

অনুরুপ ঘটনা আল-কুরতুবী, ইবনে কাছীর ও অন্যান্য মুফাসইসরীনে কিরাম বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হাযার আল-আসক্বলানী ফাতহুল বারীতে অন্য একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,

উমর রাঃ এর সময় অনাবৃষ্টি হলে একজন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাঃ এর কবরের নিকট গমণ করে বলে হে আল্লাহর রসূল আপনার উম্মতের জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করুন তারা তো ধ্বংস হয়ে গেল।

ইবনে হাযাার আসক্বালানী বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ্।

বরেণ্য ওলামায়ে কিরাম এই সকল ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং সমর্থন করেছেন। বিষয়টি অনেকের নিকট অবোধগম্য হমে হতে পারে। আমরা পূর্বে বলেছি গায়েবী শক্তির নিকট প্রার্থনা করা শিরক। একইভাবে শিরক হবে যদি কেউ কারো নিকট এমন কিছু প্রার্থনা করে যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে সক্ষম নয়। মৃত ব্যক্তির কবরে হাজির হয়ে তার নিকট দোয়া প্রার্থনা করা এই দুটিটর কোনোটির মধ্যেই অন্তভূর্ক্ত নয়। যেহেতু এমন প্রমাণ রয়েছে যে, মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পায়।

রসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় আর তার সাথীরা ফিরে যায় তখন সে তাদের পায়ের শব্দ শুনতে পাওয়া অবস্থাতেই দুজন ফেরেস্তা আগমন করে। (বুখারী ও মুসলীম)

এই হাদীস প্রমাণ করে যে, মৃত ব্যক্তি এমনকি তার আশে পাশের লোাকদের পায়ের শব্দ শুনতে পায়। রসূল্লাহ সাঃ বদরে নিহত কাফিরদের একটি গর্তে নিক্ষেপের পর তাদের নাম ও পিতার নাম উল্লেখ করে বলেন, হে অমুক, হে অমুক তোমরা কি তোমাদের রবের ওয়অঅদার সত্যতা উপলব্ধি করতে পেরেছো? একথা শুনে কেউ কেউ বলল, “আপনি কি মৃত ব্যক্তিকে আহ্বান করছেন?” রসূলুল্লা সাঃ বললেন, “তোমরা তাদের তুলনায় বেশি শুনতে পাাও না। তবে তারা উত্তর দিতে পারে না।” (সহীহ্ বুখারী)

আয়েশা রাঃ এই হাদীসটির ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন এর অর্থ হলো, তারা এখন বুঝতে পারছে যে আমার কথা সত্য।

যেহেতু আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আপনি তো মৃতকে শোনাতে সক্ষম নহেন” (সুরা নামল-৮০)

এছাড়া অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,“যে কবরে আছে আপনি তো তাকে শোনাতে সক্ষম নন।” (সুরা ফাতির-২২)

এই সকল আয়াতের ভাবার্থের উপর নির্ভর করে আয়েশা রাঃ মনে করেছেন মৃত ব্যক্তি কখনও জীবিত ব্যক্তির কতা শুনতে পায় না। কিন্তু অন্যান্য সকল সাহাবায়ে কিরাম ও তাদের পরবর্তী আইম্মায়ে কিরাম এই সকল হাদীসের প্রকাশ্য অর্থের উপর ভিত্তি করে এই মত দিয়েছেন যে, আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পায়। উভয় আয়াতের পূর্বাপর বিষয়বস্তুর উপর চিন্তা-গবেষণা করলে তাদের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়।

সূরা ফাতিরের আয়াতটির সম্পূর্ণ এমন, জীবিত আর মৃত সমান নয়। আল্লাহ যাকে খুশি শোনাতে পারেন কিন্তু যে কবরে আছে আপনি তো তাকে শোনাতে সক্ষম নন। (সুরা ফাতির-২২)

এ আয়াত স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, যদিও রসুল তার নিজ চেষ্টায় মৃতকে শোনাতে সক্ষম নন। তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে জীবিত বা মৃত যে কাউকে শোনাতে সক্ষম।

এ প্রসঙ্গে ইবনে বাত্তাল অনুরুপ কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,

আপনি তো নিজ ক্ষমতারয় মৃতকে শোনাতে সক্ষম নন যেহেতু আপনি শ্রবণ শক্তি সৃষ্টি করতে পারেন না। তবে আল্লাহই তাদের শোনাবেন। (শারহে বুখারী)

কেউ কেউ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, যেহেতু মৃত ব্যক্তি কথা শোনে ও বুঝতে পারে কিন্তু সাড়া দিতে পারে না তাই তার শোনাকে না শোনা হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে এবং কাফিরকে তার সাথে তুলনা করা হয়েছে যেহেতু সে শোনে কিন্তু ডাকে সাড়া দেয় না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রঃ মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়াতে এই ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে মুফাসসিরীনে কিরামে ঐক্যমত রয়েছে যে প্রকৃতপক্ষে এ দুটি আয়াতে কাফিরকে মৃতের সাথে তুলনা করা হয়েছে যেহেতু সে কথা শোনে কিন্তু অনুসরণ করে না ও জওয়াব দেয় না। এ বিষয়টিও উপরোক্ত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকেই সঠিক প্রমান করে যেহেতু কাফিররা প্রকৃত অর্থেই শোনে না এমন নয় বরং তারা শোনে কিন্তু সাড়া দেয় না। মৃতদের ব্যাপারটিও অনুরুপ যেহেতু তারা শোনে কিন্তু উত্তর দিতে পারে না। তাই তাদের অবস্থার সাথে কাফিরদের অবস্থার তুলনা করা হয়েছে। রসুলুল্লাস সাঃ এর হাদীসটিও একই বিষয় প্রমাণ করে যেহেতু সেখানে বলা হয়েছে,

তোমরা তাদের তুলনায় বেশি শুনতে পাও না তবে তারা উত্তর দিতে পারে না। (সহীহ্ মুখারী)

সুতরাং হাদীস ও আয়াতের ভাবার্থের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রঃ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল,

মুত ব্যক্তি কি তাকে জিয়ারত করতে আসা ব্যক্তির কথা শুনতে পায় ও তাকে দেখতে পায়?

তিনি এ বিষয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিয়ে বিস্তারিত দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়টি প্রমান করেছেন।  (মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া)

ইবনে আব্দিল বার রঃ বলেন,

রসূলুল্লাহ সাঃ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যখন এমন কোনো মুমিনের কবরের পাশ দিয়ে যায় যাকে সে দুনিয়াতে চিনতো এবং তাকে সালাম দেয় আল্লাহ তার মুহ ফিরিয়ে দেন ফলে সে উক্ত ব্যক্তির সালামের জবাব দেয়।

ইবনে তাইমিয়া মাযমুয়ায়ে ফাতাওয়াতে এবং ইবনে কায়্যূম আত-তাহযিবে এটা উল্লেখ করেছেন। এটা উল্লেখ করার পর ইবনে তাইমিয়া রঃ বলেন,

ইবনুল মুবারক রঃ বলেছেন, এটা রসুলুল্লাহ সাঃ এর কথা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং আহকামের লেখক আব্দুল হক এটাকে সহীহ্ বলেছেন।

আব্দুর রাজ্জাক রঃ তার মুছান্নাফে বর্ণনা করেন, আবু হুরাইরা রাঃ একবার এক ব্যক্তিকে কবরস্থ ব্যক্তির উদ্দেশ্য সালাম দিতে বললে সে বলে, আমি কি মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেবো? আবু হুরাইরা রাঃ বলেন,

যদি সে দুনিয়াতে কখনও তোমাকে দেখে থাকে তবে আজ তোমাকে চিনতে পারবে।

এ বিষয়ে আরো একটি চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে। আবু আয়্যুব আল-আনসারী রাঃ বলেন, যখন মুমিন ব্যক্তির রুহ কবজ করা হয় তখন তার পরিচিত অন্যান্য মৃত ব্যক্তিরা তার নিকট এসে দুনিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে। তারা বলে, “অমুক অমুকের কি খবর, অমুক কি বিয়ে করেছে” ইত্যাদি।

ঘটনাটি ইমাম ইবনে তাইমিয়া ইবনুল মোবারোকের বরাতে উল্লেখ করেছেন। (মাযমুয়ায়ে ফাতাওয়া)

উপরোক্ত দলিল-প্রমাণের আলোকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, মৃত ব্যক্তি জিয়ারতকারীর কথা শুনতে পায়। এমন বর্ণনাও রয়েছে যাতে প্রমাণিত হয় মৃতরা জীবিতদের জন্য দোয়া করে থাকে।

রসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

আমার জীবিত অবস্থা তোমাদের জন্য কল্রাণময়। যেহেতু তোমরা আমার সাথে কথা বলছো আমিতও তোমাদের সাথে কথা বলছি। আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণময় যেহেতু তোমাদের আমল আমার নিকট পেশ করা হবে যদি আমি ভাল কিছু দেখি তবে আল্লাহর প্রশংসা করবো আর যদি খারাপ কিছু দেখি তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো। (মুসনাদে বাযযার)

একই হাদীসের বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে। এগুরো সহীহ্ হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তবে বহু সংখ্যক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন,

হাইছামী বলেন, “হাদীসের রাবীরা সহীহ” (মাযমুয়ায়ে যাওয়ায়েদ) সুয়ুতী খাসায়েসুল কুবরা নামক গ্রন্থে হাদসটির সনদকে সহীহ বলেছেন। ইবনুল ইরাক্বী হাসীসটির সনদকে উত্তম বলেছেন।

উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে এটা প্রমাণিত হয় যে, মৃত ব্যক্তির নিকট দোয়া চাওয়া হলে সে সেটা শুনতে পায় এবং তার প্রতিদানে সে দোয়া করতেও সক্ষম। যেভাবে মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া হলে সে তার উত্তর দিয়ে থাকে।

যদি কেই বলে মৃত ব্যক্তি নিশ্চিত শুনছে কিনা বা সে আদৌ দোয়া করছে কিনা এটা তো জানা সম্ভব হচ্ছে না।

দোয়া চাওয়ার বিধান

দোয়া চাওয়ার বিধান
দোয়া চাওয়ার বিধান

তাকে বলা হবে যে বিষয় ঘটার সম্ভাবনা আছে সেটা চাওয়া হলে তা শিরকের পর্যায়ে পড়ে না। সেটা বাস্তবে ঘটুক বা না ঘটুক। উদাহরণ সরুপ নির্জন বনভূমি বা খোলা মরুভূমির শ্যে হারিয়ে গিয়ে িএকজন ব্যক্তি কেউ শুনলে শুনবে এ আশায় চিৎকার করে বলল, “আমাকে রক্ষা করো, আমাকে রক্ষা করো” । এটা শিরক নয়। যেহেতু এটা সম্ভব যে তার ঢাক দূরবর্তী কারো কানে গিয়ে পৌছাবে আর সে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে। যদিও এমন হতে পারে যে, তার ঢাক কারো কানে পৌছাবে না অথবা কেউ শুনেও হয়তো তাকে উদ্ধার করতে আসবে না। তবু এটা শিরক হবে না। যা ঘটা অসম্ভব নয় এমন কিছু প্রার্থনা করা শিরক হতে পারে না যদিও সেটা না ঘটে।

এই বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায় মৃত ব্যক্তির কবরে হাজির হয়ে তার নিকট দোয়া প্রার্থনা করার মধ্যে শিরকের কোন উপাদান নেই।

এ পর্যায়ে কেউ হয়তো বলবে, বিষয়টি নিজে শিরক নয় তা ঠিক কিন্তু এটার অনুমতি দিয়ে তা শেষ পর্যন্ত শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। তাই শিরকের পথ বন্ধ করার নিমিত্তে এটা থেকে মানুষকে নিষেধ করা উচিৎ। অনেকে অবাক হয়ে বলতে পারেন, উম্মতের ওলামায়ে কিরাম শিরকের পথ বন্ধ করার জন্য কবর স্পর্শ করা বা কবরে চুম্বন করা ইত্যাদি কাজ হতে মানুষকে নিষেধ করেছেন। তারা কবরে উপস্থিত হয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট দোয়া চাওয়ার অনুমতি কিভাবে দিলেন?

এ সংশয়ের নিরসন এভাবে করা যায় যে, শিরক হলো গয়রুল্লাহর ইবাদত করা। আর ইবাদত হলো কাউকে অদৃশ্যের উপর স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কর্তৃত্বশীল মনে করে তার নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করা। কারো কবর স্পর্শ করা, চুম্বন করা বা কবরের মাটিতে মাথা ঠেকানো ইত্যাদির মাধ্যমে কল্যাণ লাভের চেষ্টা করা হলে, যদিও এগুলোর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর নিকটই কল্যাণ চাওয়া হয় তবু অন্তরের ইচ্ছার পরিবর্তে এইসব বাহ্যিক কার্যকলাপই অজ্ঞ ও নির্বোধ লোকদের বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে আস্তে আস্তে মানুষের অন্তরের ইচ্ছা পরিবর্তীত হয়ে উক্ত কবরওয়ালার প্রতি তীব্র আকর্ষন সৃষ্টি হয় এবং অতিভক্তির বশবর্তী হয়ে এক পর্যায়ে সরাসরি তার নিকট হতেই কল্যাণ কামনা করার মতো শিরকী আক্বীদা বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। যেমনটি নুহ্ আঃ এর সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ঘটেছে। অপরদিকে যখন কবরকে বাহ্যিকভাবে কোনো সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শন করা হয় না। কেবল সেখানে গমণ করে নিজের জন্য দোয়া করা হয় বা কবরওয়ার নিকট দোয়া চেয়ে বলা হয় আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দোয়া করুন তখন এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, ক্ষমতা কেবল আল্লাহরই। অতএব দোয়াও করতে হবে কেবল তারই নিকট। জীবিত অবস্থায় বা মৃত অবস্থায় নবী-বা ওলী কারো কোন ক্ষমতা নেই। তারা বড়জোর আল্লাহর নিকট আমার জন্য দোয়া করতে পারে এর বেশি কিছু নয়। সকল ক্ষমতার অধিকারী মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করা ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমতা তাদের নেই । এ কথার মধ্যে শিরকের কোনো উপাদান নেই বরং এখানে তাওহীদের স্বীকৃতিই বিদ্যামান। একারণে বিচক্ষণ ওলামায়ে কিরাম এটাকে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন মনে করেন নি।

মৃত ব্যাক্তির নিকট নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার বিধান-শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর। প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.