তাকওয়া – কোরআন হাদীস সঠিকভাবে বুঝতে হলে যেসব যোগ্যতা অর্জন করা পূর্বশর্ত

তাকওয়া – কোরআন হাদীস সঠিকভাবে বুঝতে হলে যেসব যোগ্যতা অর্জন করা পূর্বশর্ত – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর এর মাজহাব বনাম আহলে হাদীস গ্রন্থ হতে নেয়া হয়েছে

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদাররা যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তবে তিনি তোমাদের ফরকান (হক্ব ও বাতিলের সাথে পার্থক্য করার শক্তি) দান করবেন। (আনফাল-২৯)

তিনি আরো বলেন, যে সব বিষয়ে তারা মতপার্থক্য করেছিলো আল্লাহ ঐ সব বিষয়ে মুমিনদের সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন। (সুরা বাকারা-২১৩)

সুতরাং অন্যান্য উপকরণগুলোর সাথে সাথে তাকওয়া যোগ না হলে সত্য খুজে পাওয়া যাবে না। একইভাবে অন্যান্য উপকরণ বাদে শুধু তাকওয়ার মাধ্যমেও সত্য খুজে পাওয়া যাবে না। যেমন পারেনি খারেজীরা। তাদের তাকওয়া, আমল, নিষ্ঠা সব কিছুই ছিল উন্নত মানের কিন্তু কোরআন বোঝার ব্যাপারে তারা যে পদ্ধতির অনুসরণ করেছিল তা ভুল ছিল। তারা সাহাবায়ে কিরামের মতামতকে উপেক্ষা করে নিজেরা কোরআন বুঝতে চেয়েছিল এবং এর ফলে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছিল।

কোরআন হাদীস হতে জ্ঞান অর্জনের জন্য যেসব যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন বলে আমরা উল্লেখ করলাম সেগুলোর উপর দৃষ্টি দিলে একজন পাঠক সহজেই বুঝতে পারবেন যে, এইধরণের যোগ্যতা সম্পন্ন লোক কম সংখকই হয়ে থাকে একারণে রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর বুঝ প্রদান করেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত (গভীর জ্ঞান) দান করেন। আর যাকে হিকমত দান করা হয় তাকে তো প্রভূত কল্যান দেওয়া হয়। (সূরা বাকারা-২৬৯)

রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত (গভির জ্ঞান) দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় তাকে তো প্রভূত কল্যান দেওয়া হয়। (বাকারা-২৬৯)

রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, দুটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে হিংসা করা যায় না। যে ব্যক্তিকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সত্যের জন্য তা ব্যায় করার মানসিকতাও তাকে দিয়েছেন আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ হিকমাত (গভীর জ্ঞান) দিয়েছেন সে তার মাধ্যমে মানুষের মাঝে ফয়সালা করে এবং সেটা অন্যকে শিক্ষা দেয়। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

এই সকল হাদীসের উপর চিন্তা গবেষণা করলে স্পষ্ট বোঝা যাবে দ্বীনের গভীর বুঝ প্রদান করা হয়েছে এমন লোকের সংখা খুব কম সংখকই থাকবে। কেননা হিংসা কেবল ঐ বিষয়েই করা হয় যা বিরল ও দূর্লভ। যখন এই ধরণের গভীর বুঝ সম্পন্ন আলেম বিদ্যামান থাকবে না তখন মানুষ এমন কিছু লোকের নিকট ফতওয়া প্রার্থী হবে যার নিজেদের আলেম হিসাবে পরিচয় দিলেও তাদের মধ্যে সঠিক ইলম থাকবে না। তাদের ফতওয়াই মানুষ পথভ্রষ্ট হবে। রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের অন্তর হতে জ্ঞান ছিনিয়ে নেন না বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি জ্ঞান উঠিয়ে নেন। এমন কি যখন একজন আলেমও বিদ্যামান থাকবে না তখন অজ্ঞ লোকেরাদ মানুষের উপর নেতৃত্ব পেয়ে যাবে। তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে আর তারা জ্ঞান ছাড়া উত্তর দেবে ফলে নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

তাকওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published.