ক্ষমতার লোভে কুফরীর বিধান বা – অর্থ-সম্পদ বা ক্ষমতার লোভে কুফরী করা বৈধ নয় – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর

ক্ষমতার লোভে কুফরীর বিধান বা অর্থ-সম্পদ বা ক্ষমতার লোভে কুফরী করা বৈধ নয় শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর

উপরে আমরা বলেছি, নিজের জীবন, সম্পদ বা অন্যান্য মুসরিমদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য কুফরী কথা উচ্চারণ করা যায়। যে কোনো প্রকার বড় ধরণের ক্ষতির ভয় থাকলে বাধ্যতা প্রমাণিত হবে। এখানে যে বিষয়টি স্মরণ রাখতে হবে তা হলো, ভয় আর লোভ এক জিনিস নয়। তাই নিজের প্রচুর পরিমাণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কুফরী করা বৈধ হলেও প্রচুর পরিমাণ সম্পদ পাওয়ার লোভে কুফরী করা কখনও বৈধ নয়। যদি কাউকে লক্ষ-কোটি টাকার লোভ দেখানো হয় বা সারা দুনিয়ার বাদশাহ্ হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয় তবু তার জন্য কুফরী করা বৈধ হবে না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া নিজের সম্পদ রক্ষার স্বার্থে রাজা-বাদশাদের সাজদা করার মতো নিকৃষ্ট কাজ করা বৈধ এমন মত দেওয়ার পর বলেন, তবে অতিরিক্ত ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের জন্য এমন করা বৈধ হবে না। (মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া)

এখানে পার্থক্য হলো, সাধারনভাবে কুফরী করা নিষিদ্ধ করার পর আল্লাহ তায়ালা বাধ্য হয়ে কুফরী করা বৈধ করেছেন। এখন বাধ্য হওয়া বলতে কি বোঝায় সে বিষয়ে ওলামায়ে কিরাম বিস্তারিত ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে তারা দুটি মূলনীতির উপর নির্ভর করেছেন। (এক) আরবী ভাষায় ইকরাহ্ তথা বাধ্য হওয়া বলতে কি বোঝায় (দুই) হাদীসে কোন বিষয়কে ইকরাহ তথা বাধ্য হওয়া বলে গণ্য করার স্বপক্ষে প্রমাণ আছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কাউকে লোভ দেখিয়ে কোনো কিছু করার প্রতি উৎসাহিত করাকে ভাষাভিত্তিকভাবে বাধ্য হওয়া বলে গণ্য করা যায় না। যেহেতু বাধ্য হওয়া বলতে বোঝায় কোনো বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা অর্থাৎ ভয় থাকা। কিন্তু এখানে কোনো ভয় নেই বরং আছে লোভ ও অহংকার।

একইভাবে কোনো হাদীসে ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের জন্য কুফরী করার অনুমতি প্রদান করা হয়নি কিন্তু নিজের জীবন, সম্পদ ও সাধারন মুসলিমদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনিবার্য প্রয়োজন বশত কুফরী কথা উচ্চারণ করা বৈধ হওয়া সম্পর্কে হাদীসে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং লোভে পড়ে কিছু করা ভাষাভিত্তিকভাবেও বাধ্য হওয়া বলে গণ্য নয় আর শরীয়তেও তা ওজর হিসেবে স্বীকৃত নয়। যেহেতু ভয় ও লোভের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

কাউকে ভয় দেখিয়ে জেনা করতে বাধ্য করা ওযর যোগ্য। কিন্তু কারো নির্জন ঘরে কোনো এক সুন্দরী মেয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যমে জেনার দিকে আকৃষ্ট করার কারণে জেনায় লিপ্ত হলে সেটাকে বাধ্য হয়ে জেনা করা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে না। যদিও অন্তরের উপর আগেরটির চেয়ে পরেরটির প্রভাব অধিক। কারণ প্রথমটিকে আল্লাহ্ ওযর হিসেবে গণ্য করেছেন আর পরেরটি ওযর হিসেবে গণ্য নয়।

তাছাড়া দুনিয়ার অর্থ সম্পদ, মান-সম্মান ও ক্ষমতার লোভে কুফরী করা বৈধ হলে সাধারনভাবে সকল কাফির-ই ছাড়া পেয়ে যাবে কারণ, বেশিরভাগ কাফির ইসলামকে সত্য হিসেবে জানার পরও দুনিয়াবী স্বার্থের লোভে পড়ে কুফরীতে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, কাফিরদের জন্য দূর্ভোগ। যারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে বেশি পছন্দ করে। (সুরা ইব্রহীম-২,৩)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, যেকেউ সীমালঙ্ঘন করে এবং দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই তার স্থান। (সুরা নাযিয়াত-৩৭-৩৯) দুনিয়াতে যত শিরক-কুফর ও পাপকাজ রয়েছে সেগুলো লোভ, হিংসা অহংকার ইত্যাদির কারণেই হয়ে থাকে। এর মধ্যে কেবলমাত্র যথাযোগ্য কারণবশত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যেটা করা হয় সেটা বাধ্যতা হিসেবে গণ্য। সেটা ছাড়া আর কোনো কিছুই ওজরযোগ্য নয়। লোভে পড়ে কুফরী করার ব্যাপারে কুরআন হাদীসে ছাড় দেওয়া হয়নি তাই উম্মতের ওলামায়ে কিরামও কখনই বিষয়টিকে ওযরযোগ্য মনে করেননি। সুতরাং ক্ষমতা, সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি, নারী ইত্যাদি কোনো কিছুর লোভে পড়ে কুফরী করা বাধ্যতা হিসেবে গণ্য নয়। এটা ওযরযোগ্যও নয়।

ক্ষমতার লোভে কুফরীর বিধান

Leave a Reply

Your email address will not be published.