কুফরীর সংকল্প করাও কুফরী – কুফরী করার সংকল্প করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া কুফরী

কুফরীর সংকল্প করাও কুফরী – কুফরী করার সংকল্প করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া কুফরী #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির# গবেষণা মূলক প্রবন্ধটি পড়ুন এবং শেয়ার করুন

ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে এসেছে,

যদি কেউ একশ বছর পরে কুফরী করার সংকল্প করে তবে সে তথনই কাফির হবে।

ইমাম আন নাব্বী রঃ বলেন, কুফরী কাজের ইচ্ছা করাটাও কুফরী। (শারহে মুহাযযাব)

তিনি রওদাতে আল মুতাওয়াল্লী রঃ হতে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো কুফরী কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে সে বর্তমানেই কাফির হবে। যদি কেউ বলে আমি কুফরী করব না কি করব না সেও তখনই কাফির হবে। একইভাবে যদি কোনো কাজের সাথে কুফরীকে সংশ্লিষ্ট করে যেমন বলে আমার সম্পদ বা সন্তান ধ্বংস হলে আমি ইয়াহুদী বা খৃষ্টান হয়ে যাবো (অর্থাৎ সেও তখনই কাফির হবে।) {আর-রাওদা}

ইবনে আবেদীন রঃ বলেন, যদি কেউ বলে আগামী কাল এমন ঘটনা ঘটলে আমি কাফির হয়ে যাব তবে সে তখনই কাফির হয়ে যাবে কারন সে উক্ত ঘটনা ঘটলে ভবিষ্যতে কুফরী করার ব্যাপারে বর্তমানে রাজী হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার)

অর্থাৎ ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবে কুফরী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সে এখনই কাফির হবে। একইভাবে কুফরী করবে কি করবে না এ ব্যাপারে পরিকল্পনা ও চিন্তা-ফিকির শুরু করলেও কাফির হবে। নিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক বা না করুক। একইভাবে কোনো বিপদ ঘটলে বা কোন উত্তম জিনিস থেকে বঞ্চিত হলে কাফির হয়ে যাবো এমন বললে ঐ ব্যক্তি তখনই কাফির হয়ে যাবে ঐ ঘটনা আদৌ ঘটুক বা না ঘটুক। যেহেতু সে কোনো একটি পর্যায়ে কাফির হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছে।

এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, যদি এমন হয় বা অমুক ঘটনা ঘটে তবে আমি কাফির হয়ে যাবো এ ধরণের কথার দুটি দিক থাকে। যদি এমন হয় যে, উক্ত ঘটনা ঘটলে ঐ ব্যক্তি প্রকৃতই কাফির হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যাক্ত করছে তবে সে তখনই কাফির হবে। আর যদি এমন হয় যে, সে আসলে উক্ত ঘটনা আদৌ ঘটবে না এমন বোঝাচ্ছে তবে সে কাফির হবে না যেহেতু সে কুফরী করার সংকল্প ব্যক্ত করেনি। মানুষ অনেক সময় বলে, যদি এ কথা ঠিক না হয় তবে আমি আমার কান কেটে ফেলবো। এখানে প্রকৃত অর্থেই কান কেটে ফেলা উদ্দেশ্য হয় না এমনকি যদি তার কথা ভুলও প্রমাণিত হয় তবু সে কান কাটবে এমন নয় বরং কান কেটে ফেলা যেমন অসম্ভব উক্ত কথাটি মিথ্যা হওয়াও তেমনি অসম্ভব এমন বোঝানোর জন্য এভাবে বলা হয়ে থাকে। একজন মসুলিমের নিকট ঈমান যেহেতু সর্বোত্তম নিয়ামত তাই অনেক সময় কোনো বিষয় অসম্ভব প্রমাণ করার জন্য কেউ কেউ বলে থাকে যদি এমন হয় বা এমন না হয় তবে আমি কাফির বা আমি বেঈমান। এখানে প্রকৃত পক্ষে কাফির বা বেঈমান হয়ে যাওয়া উদ্দেশ্য নয় বরং উক্ত ঘটনা ঘটা যে অসম্ভব এটাই উদ্দেশ্য আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি বলুন যদি আল্লাহর কোনো সন্তান থাকেই তবে আমিই প্রথম তার ইবাদত করবো। (জখরুফ-৮১)

আল্লাহর কোনো সন্তান থাকা অসম্ভব এই আয়াতে এটাই উদ্দেশ্য। আল্লাহর সন্তান থাকা এবং প্রকৃত পক্ষেই তার ইবাদত করা ইত্যাদি বিষয় এখানে উদ্দেশ্য নয়।

কুফরীর সংকল্প করাও কুফরী কুফরী করার সংকল্প করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া কুফরী #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির# গবেষণা মূলক প্রবন্ধটি পড়ুন এবং শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.