কাফিরদের কাছথেকে জিজিয়া গ্রহণ জিজিয়া গ্রহণ করে কাফিরদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার সুযোগ দেওয়া কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হিসেবে গণ্য নয় – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির

কাফিরদের কাছথেকে জিজিয়া গ্রহণ জিজিয়া গ্রহণ করে কাফিরদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার সুযোগ দেওয়া কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হিসেবে গণ্য নয় শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

“কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা কুফরী” এই মূলনীতিটির উপর আপত্তি করে আধুনা চিন্তাবিদদের অনেকে জিজিয়া গ্রহণ করে কাফিরদের নিজ ধর্ম পালন করার সুযোগ দেওয়া বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন। তারা মনে করেন ইসলাম কাফিরদের নিকট বাৎসরিক জিজিয়া কর গ্রহণ করার মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার দেয়। তাদের কেউ কেউ এতদূর পর্যন্ত বলেন যে, ইসলামী রাষ্ট্রে কাফিরদের মুসলিমদের সমান সম্মান ও অধিকার নিয়ে বসবাস করার সুযোগ দেওয়া হয়। এটা শিরক-কুফরের প্রতি ইসলামের উদারতা, সহিষ্ণতা বা সহনশীলতার উদাহরণ হিসেবে তারা মনে করেন। অতএব তারা প্রশ্ন তোলেন, কুফরীর প্রতি সহনশীলতা ও সহৃদ্যতা প্রদর্শন করলে তা কুফরী হিসেবে গণ্য হবে এটা কিভাবে সঠিক হতে পারে? মালেকী মাযহাবের ফকীহ্ আল-খারাশী তাদের এই সংশয়টির সুন্দর উত্তর দিয়েছেন। “কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা কুফরী” এই মূলনীতিটি বর্ণনা করার পর তিনি বলেন, এমন বলা সঙ্গত নয় যে, কাফিরদের নিকট জিজিয়া গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় “কুফরীর প্রতি সন্তোষ জ্ঞাপন করা কুফরী” এই মূলনীতটি সঠিক নয়।  কেননা আমরা বলি বিশেষ উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে অর্থাৎ এই ব্যক্তিরা বা এদের সংশধরেরা ইসলাম গ্রহণ করবে এই উদ্দেশ্যে তাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে অতএব এর মাধ্যমে উক্ত মূলনীতিটি বাতিল প্রমাণিত হয় না। (শারহে মুখতাসারে খলীল)

এ কথার অর্থ হলো, কাফিরদের কুফরীর প্রতি সদয় হয়ে নয় বরং তারা বা তাদের ঔরশে জন্ম নেওয়া পরবর্তী বংশধরেরা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেবে এই আশায় তাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জিজিয়া গ্রহণ করার মাধ্যমে কাফিরদের কুফরীর প্রতি সন্তোষ জ্ঞাপন করা হয় এমন যারা মনে করেন তারা জিজিয়ার স্বরুপ সম্পর্কে পরোপুরি অজ্ঞ। জিজিয়া গ্রহণ করা অর্থ কাফিরদের স্বাধীনভাবে কুফরী করার সুযোগ দেওয়া বা মুসলমানদের পক্ষ থেকে কাফিরদের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান বা কমপক্ষে সহনশীলতা প্রকাশ করা এ ধারনা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অগ্রহনযোগ্য। বরং শিরক-কুফরের উপর টিকে থাকার কারণে কাফিরদের লাঞ্চিত ও অপমানিত করার জন্যই তাদের উপর জিজিয়ার বিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জিযিয়া অর্থ কেবল নির্দিষ্ট পরিমান বাৎসরিক ট্যাক্স নয় বরং সেই সাথে এমন বহু সংখ্যক শর্ত ও চুক্তি যা ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত জিম্মী অমুসলিমরা মেনে চলতে বাধ্য থাকে। ঐ সকল শর্ত ও চুক্তির ধরন কিরুপ হবে তা পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত এবং ওলামায়ে কিরামের মতামতের আলোকে সুবিস্তারে বর্ণিত। আমরা এখানে তার কিছু অংশ বর্ণনা করতে চাই। এ বিষয়ে মূলনীতি হলো আল্লাহ তায়ালার বাণী,

কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা অপমানিত অবস্থায় জিজিয়া প্রদানে সম্মত য়। (সুরা তাওবা-২৯)

এই আয়াতে কেবল জিজিয়া প্রদানের কথা বলা হয় নি বরং অপমানিত অবস্থায় জিজিয়া প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এই আয়াতে উল্লেখিত অপমানিত অবস্থায় জিজিয়া প্রদান সংক্রান্ত আলোচনাতে ইবনে কাছির রঃ বলেন, অপমানিত অবস্থায় জিজিয়া কর দেওয়ার অর্থ তারা (ইসলামী রাষ্ট্রে) তুচ্ছ, নগন্য ও হেয় অবস্থায় থাকবে একারনে জিম্মীদের সম্মান করা অথবা মুসলিমদের উপরে স্থান দেওয়া জায়েজ নয় বরং তারাথাকবে অপমানিত, লাঞ্চিত ও হতভাগ্য অবস্থায় যেমনটি মুসলিম শরীফের একটি রেওয়াতে এসেছে। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ ‍ বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, “তোমরা ইয়াহুদী খৃষ্টনদের আগে সালাম দিওনা আর যখন তাদের সাথে রাস্তায় দেখা হয় তখন তাদের একপাশ দিয়ে যেতে বাধ্য করো”। একারণে উমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ শামের ইয়াহুদীদের সহিত সেইবস চুক্তি করেছিলেন যা সর্বজন বিদিত। (তাফসীর ইবনে কাছীর)

এরপর তিনি ঐ লম্বা চুক্তিটি সুবিস্তারে বর্ণনা করেছেন আমরা পরবর্তীতে তার কিছু অংশ উল্লেখ করবো। ইবনে কাছীর উল্লেখিত সহীহ্ মুসলিমের উপরোক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম নাব্বী রঃ বলেন, আমাদের মাযহাবের ওলামায়ে কিরাম বলেছেন, জিম্মী কাফিরকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বরং তাকে এক পাশ দিয়ে যেতে বাধ্য করা হবে। (শারহে মুসলিম)

ইবনে কাছীর রঃ যে লম্বা চুক্তিটির কথা বলেছেন তার মধ্যে উল্লেখ ছিল,

(ইয়াহুদীরা চুক্তিতে লিখেছিল) আমরা আমাদের ধর্ম প্রকাশ্যে পালন করবো না আর শিরক কুফরের দিকে কাউকে ডাকবনা আর আমাদের আত্নীয়-স্বজনদের মধ্যে যে কেউ মুসলিম হতে চায় আমরা তাকে বাধা দেব না। আর এও যে, আমরা মুসলিমদের সম্মান করবো। যদি তারা আমাদের মজলিসে বসতে চায় আমরা উঠে যেয়ে তাদের স্থান করে দেব। (তাফসীর ইবনে কাছীর)

তারিখে ইবনে খালদুনের বর্ননায় এধরনের কথায় আছে তবে আমরা শিরক কুফর প্রকাশ্যে পালন করব না এ স্থলে আমরা আমাদের ধর্ম প্রকাশ্যে পালন করব না এমন বলা আছে। ইবনে কয়্যিম রঃ আহকামু আহলিল জিম্মা  আর ইবনে মানযুর মুখতাসার তারিখে দেমেশকে উল্লেখ করেছেন, আমরা আমাদের ধর্মের দিকে কাউকে উৎসাহিত করব না এবং কাউকে সেদিকে ডাকব না (আমাদের ধর্মের প্রচার করব না)।

ইবনে তাইমিয়া রঃ বলেন, অমুসলিম জিম্মীদের উপর উমর ইবনে খাত্তাব, অন্যান্য সাহাবারা এবং মুসলিমদের সমস্ত খলীফারা এই শর্ত করতেন যে, তারা ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের ধর্মীয় উৎসব সমূহ প্রকাশ্যে পালন করতে পারবে না বরং তাদের বাড়িতে গোপনে পালন করবে। (মাজমুউল ফাতাওয়া)

এছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিমদের নতুনভাবে উপসনালয় নির্মাণ করার অধিকার দেওয়া হবে না। তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না। মোট কথা, কোনোভাবে তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হবে না বরং আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তাদের কেবল অপমানিত ও লঞ্চিত করা হবে। এটিই হলো মূলত জিজিয়া যা কেবল কুফরীর প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞারই প্রমান বহন করে সহনশীলতা বা সহৃদতা নয়। যারা জিজিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ কেবল তারাই জিজিয়ার মাধ্যমে শিরক-কুফরকে মেনে নেওয়া হয়েছে বা স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে এমন মনে করে। এ সংশয়টি নিরসনের পর আমরা ঈমান ভঙ্গের এ মূলনীতিটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করবো। কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা বলতে বিভিন্ন বিষয়কে বোঝায়। আমরা নিম্নের আলোচনাতে পর্যায়ক্রমে সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

কাফিরদের কাছথেকে জিজিয়া গ্রহণ জিজিয়া গ্রহণ করে কাফিরদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার সুযোগ দেওয়া কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হিসেবে গণ্য নয় শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনির এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না। একই সাথে কাফিরদের কাছথেকে জিজিয়া গ্রহণ প্রবন্ধটি পড়ে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.