ঈমানের শর্তাবলী কাজে পরিনত করা – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর

ঈমানের শর্তাবলী কাজে পরিনত করা শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর এর গবেষণা মূল প্রবন্ধ

শাব্দিকভাবে ঈমান অর্থ অন্তরে বিশ্বাস করা কিন্তু ইসলামী পরিভাষায় অন্তরে বিশ্বাস করার পাশা-পাশি মুখে স্বীকার করা এবং কাজে পরিনত করার নামই ঈমান।

এ বিষয়ে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, ঈমান হলো, তিনটিজিনিসের সমন্বয়। অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং আমলে পরিনত করা। (উমদাতুল কারী)

এটি একটি প্রশিদ্ধ মূলনীতি। এখানে ঈমানের সাথে তিনটি বিষয়কে যুক্ত করা হয়েছে।

ক. অন্তরে বিশ্বাস করা

খ. মুখে স্বীকার করা

গ. আমলে পরিনত করা

এই তিনটি বিষয়ের প্রতিটি সম্পর্কে পৃথকভাবে আলোচনা প্রয়োজন।

গ. আমলে পরিনত করা

উপরে আমরা দেখেছি, ঈমানের সংগায় অন্তরে বিশ্বাস স্থাপণ ও মৌখিক স্বীকৃতির সাথে সাথে আমলে পরিনত করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তির স্বীকার হয়েছে। খারেজীরা এই বিষয়টিকে পূর্বের দুটি শর্তের মতোই ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য অলংঘনীয় শর্ত হিসেবে মনে করেছে। একারণে আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা দিলে অর্থাৎ কোনো ফরজ আমল পরিত্যগ করলে বা কোনো পাপ কাজে লিপ্ত হলে তারা মানুষকে কাফির হিসেবে আখ্যায়িত করতো। মু’তাজিলাদের আক্বীদাও অনুরুপ তবে তারা বলে, পাপী ব্যক্তি মুমিনও নয় কাফিরও নয়। তারা ঈমান ও কুফরের মাঝামাঝি একটি স্তরের দাবী করে। এদের বিপরীতে মুরজিয়ারা মনে করে ঈমান হলো, কেবলমাত্র অন্তরে বিশ্বাস করা এবং মুখে স্বীকার করা। আমল করার সাথে ঈমানের কোনো সম্পর্ক নেই। একারণে তারা নেককার ও বদকার সকলকে ঈমানের দিক থেকে সমান মনে করে। এবিষয়ে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হলো, ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য আমল শর্ত নয় তবে ঈমান পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য আমল করা শর্ত। একজন ব্যাক্তির আমল-আখলাক যত উত্তম হবে তার ঈমান তত পরিপূর্ণ হবে। একারণে তারা নেককার-বদকার সকলের ঈমান সমান এমন মনে করেন নি আবার পাপে লিপ্ত হলেই কাউকে কাফিরও বলেন নি। তাদের নিকট ঈমানের দুটি অর্থ রয়েছে।

ক. যে পর্যায়ের আক্বীদা-বিশ্বাস ও আমল আখলাক অর্জন করলে একজন ব্যাক্তিকে প্রশংসার স্বরে মুমিন আখ্যায়িত করা যায় সেই পর্যায়ের ঈমান। এই পর্যায়ের ঈমান অর্জনের জন্য আমল শর্ত নয় বরং কেবলমাত্র অন্তরে বিশ্বাস করা এবং মুখে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই একজন ব্যাক্তি এই পর্যায়ের মুমিন বলে গণ্য হয়।

খ. যে পর্যায়ের আক্বীদা-বিশ্বাস ও আমল আখলাক অর্জন করলে একজন ব্যাক্তিকে প্রশংসার স্বরে মুমিন আখ্যায়িত করা যায় সেই পর্যায়ের ঈমান। এই পর্যায়ের ঈমান অর্জনের জন্য অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন ও মুখে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশা-পাশি আমল করতে হবে। যেহেতু একজন চোর-ডাকাত বা ব্যাভিচারীর উদ্দেশ্যে এমন বলা সঙ্গত নয় যে, তিনি একজন মুমিন ব্যাক্তি। প্রশংসার স্বরে এভাবে তাকে মুমিন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না কিন্তু আসলে সে মুমিন এবং তার উপরে ঈমানের যাবতীয় বিধান কার্য্কর হবে।

আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামায়াতের ওলামায়ে কিরাম ঈমানের সংগায় আমলের কথা উল্লেখ করেন অথচ আমল পরিত্যাগ করলে তারা কাউকে কাফির বলেন না এ বিষয়টি অনেকের নিকট জটিল ও অস্পষ্ট মনে হয়েছে। এই জটিলতা নিরসনে বদরুদ্দিন আইনী রঃ উমদাতুল কারীতে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। সেখানে ঈমানকে উপরোক্ত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, শরীয়তে ঈমান শব্দটি কখনও কখনও প্রকৃত অর্থে ঈমান বলতে যা বোঝায় (যার বিপরীত হলো কুফর) সেই অর্থে এসেছে। সে ক্ষেত্রে আমল শর্ত নয়। ….. আবার কখনও কখনও ঈমান বলতে পরিপূর্ণ ঈমান বোঝানো হয় সেক্ষেত্রে আমল শর্ত। (উমদাতুল ক্বারী)

এরপর তিনি দ্বিতীয় পর্যায়ের ঈমান সম্পর্কে বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস, ব্যাভিচারী যখন ব্যাভিচার করে এবং চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না (বুখারী ও মুসলিম) এখানে এই পর্যায়ের ঈমান উদ্দেশ্য।

আর প্রথম পর্যায়ের ঈমান সম্পর্কে ঐ হাদীসটি উল্লেখ করেন যেখানে বলা হয়েছে, কালেমার উপর বিশ্বাস স্থাপণ করে মৃত্যু বরণ করলে একজন ব্যাক্তি (আগে হোক পরে হোক) জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও সে চুরি করে যদিও সে জিনা করে। (বুখারী ও মুসলিম)

এই হাদীসে ঈমান বলতে বোঝানো হয়েছে প্রথম প্রকারের ঈমান অর্থাৎ যতটুকু ঈমানের কারণে একজন ব্যাক্তি কাফির হওয়া থেকে বেঁচে যায় এবং একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করে সেই পর্যায়ের ঈমান।

এরপর তিনি বলেন, যে ধরনের ঈমান থাকলে আদৌ জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে না এমন ঈমান (অর্থাৎ পরিপূর্ণ ঈমান) হলো দ্বিতীয় পর্যায়ের ঈমান এ বিষয়ে সকল মুসলিম একমত আর যে ধরনের ঈমান থাকলে জাহান্নামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে না (বরং একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে) এমন ঈমান হলো প্রথম পর্যায়ের ঈমান। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সকল আলেম এ ব্যাপারে একমত। তবে খারেজী ও মু’তাজিলারা এ ব্যাপারে দ্বিমত করেছে।

এ বিষয়ে ইবনে হাযার আসক্বলানী রঃ বলেন, মু’তাজিলারাও বলেছে ঈমান হলো, অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার করা এবং আমলে পরিনত করা তবে তাদের সাথে সালাফদের পার্থক্য হলো, তারা বলেছে ঈমান প্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য আমল করা শর্ত আর সালাফরা বলেছেন, ঈমান পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য আমল শর্ত। (ফাতহুল বারী)

দেখা যাচ্ছে ইবনে হাযার আসক্বালানী রঃ মূলত উপরোক্ত লম্বা ব্যাখ্যাটিই সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন।  এ বিষয়ে ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেছেন, ঈমান হলো, অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং আমলে পরিনত করা। যার অন্তরে বিশ্বাস নেই (কিন্তু মুখে স্বীকার করে) সে মুনাফিক, যে মুখে স্বীকার করে না সে কাফির আর যে কেবল আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটি করে সে ফাসিক। সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে বেঁচে যাবে এবং (কোনো একদিন) জান্নাতে প্রবেশ করবে। (উমদাতুল ক্বারী)

উপরোক্ত বিশ্লেষণের আলোকে এটা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের সকল ওলামায়ে কিরামের ঐক্যমত অনুসারে আমল ঈমানের বিশুদ্ধতার জন্য শর্ত নয় তবে ঈমান পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য শর্ত। এই স্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খারেজীদের মতবাদ খন্ডিত হয় যারা আমলে ত্রুটি থাকলে তথা পাপে লিপ্ত হলে একজন মুসলিমকে কাফির হিসেবে আখ্যায়িত করতো।

ঈমানের সাথে আমলের সম্পর্কের বিষয়ে বর্তমানে আরেকটি ভুল ধারনা প্রচার করা হয়। কেউ কেউ বলেন, ঈমানের সাথে কোনো না কোনো আমল করতে হবে। যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস করে এবং মুখে স্বীকার করে কিন্তু সারাজীবনে কোনো আমলই করে না সে কাফির। মুমিন হতে হলে, অন্তরে বিশ্বাস এবং মুখে স্বীকারের পাশা-পাশি কিছু সংখ্যক আমলও অবশ্যই করতে হবে। কিছু সংখ্যক আমল বলতে কয়টি আমল বোঝায় সে বিষয়েও তারা বিভিন্ন রকম মতামত দিয়ে থাকেন কেউ বলেন, একটি কেউ বলেন, তিনটি ইত্যাদি। উপরোক্ত বিশ্লেষণ স্বাপেক্ষে এই মতটির ভ্রান্তিও প্রমাণিত হয়। যেহেতু ওলামায়ে কিরাম সাধারনভাবে আমলকে ঈমান পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঈমান শুদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। সুতরাং কমপক্ষে একটি, তিনটি বা পাঁচটি আমল করতে হবে এধরণের মতবাদ উপস্থাপণ করা অবশ্যই অযৌক্তিক। যেহেতু এর বিপরীতে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর স্পষ্ট হাদীস এবং ওলামায়ে কিরামের ঐক্যমত রয়েছে।

একটি হাদীসে এসছে, নবী-রাসুল, ফেরেশতা ও নেককার ব্যক্তিদের শাফায়াতের মাধ্যমে সকল প্রকার পাপীদের জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালার এমন কিছু লোককে জাহান্নাম থেকে বের করবেন যাদের সম্পর্কে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, “তারা কখনও কোনো ভাল আমল করেনি।” (বুখারী ও মুসলিম)

এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে ব্যক্তি কোনো ভাল আমলই করেনি সেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারে। এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ওলামায়ে কিরামের ঐক্যমতের মাধ্যমে প্রমাণিত আক্বীদা। মোল্লাহ আলী ক্বারী রঃ বলেন,

সকল প্রকারের ভাল আমল পরিত্যাগ করা এবং সকল প্রকার পাপে লিপ্ত হওযার মাধ্যমেও একজন মুমিন ঈমান থেকে বের হয়ে যায় না। এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা। খারেজী ও মু’তাজিলারা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। (শারহে ফিকহে আকবার-২৫৫)

উপরে ঈমান ভঙ্গের তৃতীয় ও চতুর্থ মূলনীতি সম্পর্কিত আলোচনাতে আমরা দেখেছি আল্লাহর দ্বীনের সাথে অবমাননাকর কথা ও কাজের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কাফিরে পরিনত হয়। যেমন, পবিত্র কুরআন ময়লা-আবর্জনার মধ্যে ছুড়ে ফেলে দেওয়া, আল্লাহ, নবী-রাসুল ও ফেরেশতাদের শানে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা। (নাউযু বিল্লাহ্) একইভাবে মূর্তির সামনে সাজদা করা, কাফিরদের সাজে সজ্জিত হওয়া এবং তাদের উপসনালয়ে গমণ করে তারা যা করে তাই করা ওলামায়ে কিরামের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে কুফরী হিসেবে গণ্য। একক্ষেত্রে বাহ্যিক কাজটির মাধ্যমেই তাকে কাফির বলা হবে যদিও সে দাবী করে যে, তার অন্তরে ঈমান রয়েছে।

এখন কেউ বলতে পারে, যদি কোনো আমলের মাধ্যমে ঈমান বিনষ্ট নাই হয় তবে এই সকল আমলের মাধ্যমে ঈমান ভঙ্গ হচ্ছে কিভাবে?

এই প্রশ্নের সহজ ও সুস্পষ্ট উত্তর হলো, আমরা বলেছি, আমল পরিত্যাগ করার মাধ্যমে বা পাপ কাজের কারণে ঈমান ভঙ্গ হয় না কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস না থাকলে এবং সেই অনুযায়ী মৌখিক স্বীকৃতি না দিলে কারো ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়। এখন একজন ব্যক্তির অন্তরে বিশ্বাস আছে কিনা সেটা আমরা তার অন্তর ভেদ করে জানতে পারি না বরং তার মৌখিক স্বীকৃতি ও বাহ্যিক কার্য্কলাপের উপর ভিত্তি করে বুঝতে পারি। একারণে মৌখিক স্বীকৃতিও ঈমাণ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, ওলামায়ে কিরাম এই সকল কাজকে কুফরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কারন এই সকল কার্য্কলাপ উক্ত ব্যাক্তির অন্তরে কুফরী থাকার প্রমাণ বহন করে।

উপরে আমরা ইবনে হাযার আসক্বালানী ও কাজি ইয়াদ থেকে উল্লেখ করেছি যে, তারা এই সকল কার্য্কলাপ কুফরী হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেছেন, যেহেতু এগুলো কুফরীর প্রমাণ ও প্রতীক হিসেবে গণ্য তাই কেবলমাত্র যার অন্তরে কুফরী আছে সে ছাড়া এসব কাজে কেউ লিপ্ত হতে পারে না একারণে এসব কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে কাফির বলা হবে। অর্থাৎ এসকল কার্য্কলাপ ঈমানের প্রথম শর্ত তথা অন্তরে বিশ্বাস থাকার ব্যাপারটিকেই নাকোচ করে। কেননা এটা নিশ্চিত যে, যার অন্তরে প্রকৃত বিশ্বাস রয়েছে এবং সে বিশ্বাসকে জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করার প্রবল আগ্রহ রয়েছে সে কোনোরুপ বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বেচ্ছায় এসব কুফরী কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে না। অতএব, এসব কাজে লিপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারে নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, সে অন্তরে ঈমান গ্রহণ করে নি।

তাছাড়া পূর্বে আমরা বলেছি, ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য অন্তরে বিশ্বাসের সাথে সাথে মুখে স্বীকৃতি দেওয়া শর্ত। যদি কেউ মুখে ঈমানের স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ কুফরীর ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে ঈমানের ঘোষণা বাতিল হয় এবং ঈমানের দ্বিতীয় শর্ত ভঙ্গ হয়। যদি কেউ কালেমা পাঠ করে মুসলিম হওয়ার পর বলে আমি পুনরায় কাফির হয়ে গেলাম তবে তার অন্তরের বিশ্বাস যাই হোক সে কাফিরে পরিনত হবে যেহেতু এর মাধ্যমে মৌখিক স্বীকৃতির বিষয়টি বাতিল হয়। আর মুমিন হওয়ার জন্য অন্তরের বিশ্বাসের পাশাপাশি বাহ্যিক স্বীকৃতি প্রদান করাও শর্ত। এখন যদি কেউ সরাসরি মুখে কুফরীর স্বীকৃতি  প্রদান না করে তবে এমন কোনো কাজ করে যা কুফরীর পরিচয় বহন করে এবং কুফরীর প্রমাণ ও প্রতীক হিসেবে কাজ করে তবে এটা মুখে কুফরীর স্বীকৃতি দেওয়ার মতোই। যেহেতু স্বীকৃতি অনেক সময় কথার মাধ্যমে হয় আবার অনেক সময় কাজের মাধ্যমে হয়। অতএব, এধরনের কাজে লিপ্ত ব্যক্তি তার পূর্বের ঈমানের স্বীকৃতি বাতিল করার কারণে কাফিরে পরিনত হয়। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীন নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করা বা বাহ্যিকভাবে কুফরী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে ঈমান গ্রহনযোগ্য হওয়ায় উভয় শর্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণে এসকল বিষয় কুফরী হিসেবে গণ্য। সাধারনভাবে পাপ কাজ ও আল্লাহর অবাধ্যতা করার কারণে নয়।

এই বিশ্লেষণস্বাপেক্ষে বলা যায় যেসব কাজ ঈমানের প্রথম দুটি শর্তকে বাতিল করে কেবল সেই সকল কাজ কুফরী হিসেবে গণ্য এছাড়া অন্যান্য কাজ-কর্মের ব্যাপারে কথা হলো সেগুলো ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত নয় তবে ঈমান পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য শর্ত। উপরোক্ত আলোচনার সারমর্ম এটাই।

ঈমানের শর্তাবলী কাজে পরিনত করা ঈমানের শর্তাবলী কাজে পরিনত করা ঈমানের শর্তাবলী কাজে পরিনত করা ঈমানের শর্তাবলী কাজে পরিনত করা

Leave a Reply

Your email address will not be published.