ইসলামে নারীনীতি – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মূনীর

ইসলামে নারীনীতি শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

বর্তমান যুগে নারীর স্বাধীনতা ও সমতার জোয়ার-ভাটা চলছে। শুধু জোয়ার নয়, বরং জোয়ার-ভাটা বলছি, কারণ স্বাধীনতার জোয়ারে ঘর-বাড়ি ছেড়ে, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতে বের হয়ে নারীরা যে মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন হেয়েছে সে কারণে স্বাধীনতার আবেগে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। স্কুল-কলেজে শিক্ষার আলো অর্জন করতে যেয়ে কত মেয়ের জীবন অন্ধকার হয়ে গেছে তার হিসাব কে রাখে। অফিস আদালতে সহকর্মী ও অফিসারদের হাতে লাঞ্চি হয়েছে কত মহিলা। মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে-ফিরে স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগকালে চলন্ত বাসেই সম্ভ্রম হারাচ্ছে অনেকে। এতকিছুর পরও কিছু লোক গলা ফাটিয়ে বলে যাচ্ছে, নারীদের পর্যাপ্ত স্বাধীনতা দিতে হবে। এরা আর কি চায়! নারী স্বাধীনতা বলতেই বা এরা কি বোঝায়?

নারীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, ইজ্জত-সম্ভ্রম, মান-মর্যাদা, সুখ-শান্তি সব কিছু থেকে স্বাধীন করে ফেলাই কি এদের উদ্দেশ্য?

এরা বলে, নারী-পুরুষ উভয়কে সমান অধিকার দিতে হবে। এটা তাদের মুখের বুলি মাত্র। এরা আসলে চায় সমঅধিকারের নামে নারীকে বাড়ি থেকে বের করে সমাজে অশ্লীলতা ও বেহায়াপানা ছড়িয়ে দিতে। এরা যদি সমঅধিকারই চায় তবে বলতে পারতো, নারী-পুরুষ উভয়ে বোরখা পরে রাস্তায় বের হবে। তাতেও বোঝা যেতো এরা ভুলভাবে হলেও নারী-পুরুষ উভয়কে সমান করতে চাচ্ছে। কিন্তু এরা বলে, পুরুষের শরীরে যতটুকু কাপড় আছে থাক কিন্তু নারীদের উলঙ্গ করে ফেলতে হবে। পুরুষরা সারা শরীর ঢেকে চলা-ফেরা করলেও সেটা আপত্তির বিষয় হয় না কিন্তু মেয়েরা নিজেদের শরীর আবৃত করার চেষ্টা করলেই সেটা মধ্যযুগীয় নিয়মনীতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে কোনো মেয়ে স্বেচ্ছায় বোরখা পরিধান করলেও তাকে তিরস্কার করা হয়। আমাদের দেশে অনেক সময় স্কুল-কলেজের কর্তৃপক্ষ বোরখা পরিধান করার অপরাধে ছাত্রীদের শাস্তির বিধান করে থাকে। বহির্বিশ্বে যেমন ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বোরখা পরিহিত নারীদের লাঞ্চিত করে থাকে। প্রশ্ন হলো ইচ্ছামতো পোশাক পরিধান করার স্বাধীনতাও যেখানে দেওয়া হয় না সেটাকে নারী স্বাধীনতা কিভাবে বলা যায়। এটা স্পষ্ট প্রমাণ করে আসলে এরা স্বাধীনতা বা সমতার নামে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে চায়। আল্লাহ্ বলেন,

নিশ্চয় যারা চায়, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না। (সুরা নুর-১৯)

এসব বিবেকভ্রষ্ট লোকেরা বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে থাকে। কম বয়সে মেয়েদের বিবাহ হলে নাকি অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুর ঝুকি থাকে। অনেকের নিকট মনে হবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে এনারা বড্ড চিন্তিত। আসল ব্যাপার কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো। বিয়ে হতে দেরি হলে মুসলিম যুবক-যুবতীরা চরিত্রহীন হয়ে যাবে এনারা এটিই চান। সুস্বাস্থ্য বা অকাল মৃত্যুই যদি এদের দুশ্চিনার কারণ হবে তবে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ককে নিষেধ করে না কেন? বৈধ পন্থায় নিজের চরিত্রকে রক্ষা করা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে আর চরিত্র নষ্ট করার জন্য সকল পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কি? বিবাহের মাধ্যমে মিলন হয় একজনের সাথে সীমিত পরিসরে আর বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক হয় বহু জনের সাথে। বহু জনের সাথে বহুমুখী সম্পর্কের ফলে “এইডস” এর মতো মারাত্নক রোগ বালাই দেখা দেয়। এটাই কি এসকল বুদ্ধিজীবীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা? তাছাড়া স্কুল-কলেজের উম্মুক্ত পরিবেশে খোলা-মেলা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে যেসব যুবক-যুবতী চরিত্রহীন হয়ে যায় তারা বিবাহের পরেও একে-অপরকে দেল দিয়ে ভালবাসার পরিবর্তে এক জন আরেকজনের মাথায় বেল ভেঙ্গে পরকীয়া চালিয়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষে সাজানো সংসার ও ছেলে-মেয়ে পরিত্যাগ করে প্রেমিক-প্রেমিকার হাত ধরে পালিয়ে যায়। কখনও কখনও স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে হত্যা করে এমনকি নিজেদের সন্তানকে নিজে হাতে হত্যা করে। এই ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ড ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করাই এই সকল বুদ্ধিজীবীদের নীল নকশার অন্তর্ভুক্ত।

এর বিপরীতে ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কে তাদের নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী যথা স্থানে নিযুক্ত করেছে। ব্যবসা-বানিজ্য, চাষাবাদ বা চাকুরীর মাধ্যমে আয় উপার্জন করে সংসার পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরুষকে। আর নারীকে দেওয়া হয়েছে সন্তান জন্ম দেওয়া, লালন-পালন করা, রান্না-বান্না করা ইত্যাদি ঘরোয়া কাজ। সন্তানের জন্য মায়ের চেয়ে অধিক মমতাময়ী কেউ হতে পারে না আর আয় উপার্জনে পুরুষের মতো সুদক্ষ নারীরা নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

তার মা তাকে গর্ভে ধারন করে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে। পরে তাকে দুই বছর যাবৎ বুকের দুধ খাওয়ায়। (সুরা লুকমান-১৪)

প্রশ্ন হলো, এতো কষ্ট করে যে মা সন্তান ধারন ও পালন করে যদি নিজের দু মুঠো অন্নের জন্য তাকে অফিস-আদালতে দৌড়াতে হয় সেটা কিভাবে সমতা ও স্বাধীনতা হয়? এটা কিভাবে মানবতা হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। যারা মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত করে পুরুষদের কাধ হালকা করছেন তারা প্রকৃতই নারীবাদী নাকি পুরুষবাদী সেটিও তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। মোটামুটিভাবে ইসলামের এই সব বিষয়েই বিধর্মীদের পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি উত্থাপন করা হয়। এছাড়া আরো অনেক বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি-অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এখানে সেসব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। সেটার বিশেষ প্রয়োজনও নেই। মৌলিকভাবে এখানে এটা জেনে নেওয়াই যথেষ্ট যে, এই সকল বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এসব বিধানের যৌক্তিকতা অবশ্যই আছে তা আমাদের বুঝে আসুক বা না আসুক। একজন মুসলিমের কাজ হলো আল্লাহ্ ও তার রসুলের কথা বিনাবক্যে গ্রহণ করা। যুক্তি-তর্ক উপস্থাপণ করা নয়।

ইসলামে নারীনীতি shayekh abdullah al munir এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। এবং ইসলামে নারীনীতি পড়ার পরে আপনার মন্তব্য জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.