ইলম অর্জনের সঠিক পদ্ধতি – কোরআন হাদীস হতে ইলম অর্জনের সঠিক পদ্ধতি – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর

ইলম অর্জনের সঠিক পদ্ধতি – কোরআন হাদীস হতে ইলম অর্জনের সঠিক পদ্ধতি – শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর এর মাজহাব বনাম আহলে হাদীস গ্রন্থ হতে সংকলিত

কোরান হাদীসের উপর জ্ঞান অর্জন করে আমল করার ব্যাপারে মানুষ দুই দলে বিভক্ত।

১। কিছু লোক সাহাবায়ে কিরাম ও তৎপরবর্তী উলামায়ে মুজতাহিদীনের মতামতকে উপেক্ষা করে সরাসরি কোরান হাদীসের উপর আমল করতে চান। পূর্ববর্তী আলেমরা এদের জাহেরী বলে আখ্যায়ি করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইবনে হিযাম ও দাউদ আজ-জাহিরী। তবে বর্তমানে জাহেরীদের আদর্শ ও চিন্তাভাবনাতে যে মারাত্মক ত্রুটি বিচ্চুতি ঘটেছে ইবনে হিযাম বা দাউদ আজ-জাহিরী তা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। তারা ইজমাকে দলীল হিসেবে মান্য করতেন। ‍উলামায়ে কিরামের মতামতকে কমবেশি শ্রদ্ধা সম্মান করতেন। একারনে আলেমরা কেউই তাদের পথভ্রষ্ট বা বিভ্রন্ত মনে করেননি। কিন্তু বর্তমানে কিছু লোক ইজমা অস্বীকার করে, ফিকাহগ্রন্থ ও ওলামায়ে কিরামের মতামতকে পিছনে নিক্ষেপ করে। তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলে যে কাউকে বিদআতী, গোমরাহ্, কাফির ইত্যাদি ফতওয়া দিয়ে বসে। এরা সব সময় নিজেদের সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী মনে করে খুটিনাটি বিভিন্ন বিষয়ে সারাক্ষণ তর্ক বিতর্কে লিপ্ত থেকে সময় নষ্ট করে। এরা নিজেদের আহলে হাদীস, সালাফী ইত্যাদি নামে পরিচয় দিয়ে থাকে। এদের মধ্যে সবাই সমান নয় তবে বেশিরভাগের অবস্থা তা যা আমরা বর্ণনা করলাম। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

২। যারা কোরান হাদীস বোঝার ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম ও তাদের পরবর্তী আইম্মায়ে মুজতাহিদীনদের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পক্ষপাতী। দ্বিতীয় দলটির বৈশিষ্ট হলো ইজমাকে অকাট্য দলীল মনে করা, বেশিরভাগ আলেমের মতামতকে উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত বিরল মতকে গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা, কোরান বা হাদীসের কোনো দলীল হতে আমরা এখন যা বুঝি সেটাকে চুড়ান্ত মনে না করে ঐ ব্যাপারে পূর্ববর্তী ওলামায়ে কিরামদের বুঝ কি ছিল সেটা লক্ষ করা এবং নিজেদের বুঝ পরিত্যাগ করে তাদের বুঝ গ্রহণ করা ইত্যাদি। এটা চার মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ওলামায়ে কিরাম ও তাদের অনুসারীদের চিন্তাধারা।

আহলে হাদীস বা সালাফীরা অবশ্য এই সকল আলেমদের মাযহাবী আলেম বলে তিরষ্কার করে থাকেন এবং এদের অনুসারীদের মুকাল্লিদ, অন্ধ অনুসারী ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে গালিগালাজ করে থাকেন। একইভাবে মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ওলামায়ে কিরাম প্রথম যুগ হতেই প্রথম দলটিকে জাহেরী নামে আখ্যায়িত করে আসছেন। সাদামাটাভাবে কোরআন-হাদীস বোঝার চেষ্টা করার কারণে তারা তাদের নিন্দাও করেছেন। কাজী ইবনুল আরাবী রঃ ওযুতে মাথা মাসেহ করার পরিবর্তে ধৌত করে নিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে কেউ কেউ গ্রহণযোগ্য না হওয়ার মত দিয়েছেন বলে উল্লেখ করার পর এটার নিন্দা করে বলেন, এটা হচ্ছে দাউদের (দাউদ আজ-জাহেরী যার কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। ভ্রান্ত নীতিমালাসমূহের মধ্যে একটি। আর তা হলো(শরীয়তের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবনের চেষ্টা না করে) কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা প্রকাশিত হয় তার অনুসরণের মাধ্যমে শরীয়তকে ধ্বংস করে দেওয়া। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এর নিন্দা করে বলেন “তারা তো কেবল দুনিয়ার বাহ্যিক বিষয় সমূহের ব্যাপারে অবগত” (সূরা রুম-৭) আহকামুল কুরআন

এ ব্যাপারে এই উভয় দলের মধ্যে দ্বিতীয় দলটিই সত্যপন্থী কেননা সাহাবায়ে কিরাম ও পূর্ববর্তী আইম্মায়ে মুজতাহিদীনদের মতামত উপেক্ষা করে সরাসরি কোরআন হাদীস হতে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করলে মারাত্মক ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পরবর্তী পোষ্টে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করবো ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.