কেউ কুফরী করুক কামনা করা বা অন্য কেউ কুফরী করুক এটা কামনা করার বিধান #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর

কেউ কুফরী করুক কামনা করা বা অন্য কেউ কুফরী করুক এটা কামনা করার বিধান #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

উপরে আমরা বর্ণনা করেছি, যে ব্যক্তি নিজের কুফরী কামনা করে সে কাফির হয় নিন্তু অন্য কারো কুফরী কামনা করলে সে কাফির হবে কিনা সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে। হানাফী মাজহাবের ফিকাহ্ গ্রন্থ মাজমাউল আনহারে বলা হয়েছে,

নিজের ব্যাপারে যে ব্যক্তি কুফরী কামণা করে সে কাফির এ ব্যাপারে সকলে একমত কিন্তু যে ব্যক্তি অন্যের ব্যাপারে কুফরী কামনা করে তার সম্পর্কে দ্বিমত রয়েছে। শাইখুল ইসলাম বলেন, অন্যের কুফরী কামনা করা কেবল তখন কুফরী হবে যখন কুফরীকে উত্তম ও শ্রেয় মনে করে এটা করা হয় কিন্তু যখন এভাবে নয় বরং কোনো অত্যাচারী ব্যক্তিকে আল্লাহ শাস্তি দিক এই ইচ্ছায় সে কাফির হয়ে মারা যাক বা কাফির অবস্থায় নিহত হোক এটা কামনা করা হয় তবে তা কুফরী হবে না। এই দৃষ্টিকোন থেকে বলা যায়, যদি কেউ কোনো জালিমের উপর বদ দোয়া করে বলে আল্লাহ তোর কাফির অবস্থায় মৃত্যু দিক বা আল্লাহ তোর ঈমান ছিনিয়ে নিক তবে যে এই দোয়া করবে তার কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে কষ্ট দেওয়া বা জুলুম করার বিনিময়ে আল্লাহ তার নিকট হতে প্রতিশোধ নিক।

বাহরুর রায়েক ও হানাফী মাযহাবের অন্যান্য ফিকাহগ্রন্থে অনুরুপ কথা বলা হয়েছে। শাফেঈ মাযহাবের ফিকাহ্ গ্রন্থ আর-রাওদাতে ইমাম নাব্বী রঃ আল-মুতাওয়াল্লী থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন,

যদি কোনো মুসলিম অন্য কোনো মুসলিমকে বলে আল্লাহ তোমার ঈমান ছিনিয়ে নিক বা কোনো কাফিরকে বলে আল্লাহ তোমাকে ঈমান আনার তাওফীক না দিক তবে এটা কুফরী হবে না যেহেতু এটা কুফরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হিসেবে গণ্য নয় বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে কঠোর শাস্তি প্রার্থনা করে বদ-দোয়া হিসেবে এটা করা হয়।

কোনো অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর ব্যক্তি কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করুক এটা কামণা করা যে দোষের কিছু নয় মুসা আঃ এর ঘটনা এ ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল। তিনি ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের উপর বদদোয়া করে বলেছিলেন,

হে আমাদের রব তাদের সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তর কঠোর করে দিন যাতে তারা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তিতে পতিত হওয়ার আগ পর্য্ন্ত ঈমান না আনে। (ইউনূস-৮৮)

অতএব, যে ব্যক্তি কুফরী কাজের প্রতি সন্তোষ প্রকাশের উদ্দেশ্যে অন্য কেউ কাফির হয়ে যাক এটা কামনা করে সে কাফির হবে কিন্তু যে জালিম ও পাপাচারী ব্যক্তির শাস্তি কামনা করে কাফির অবস্থায় তার মৃত্যু হোক এমন দোয়া করে তার এ কাজ কুফরী নয় এমন কি পাপও নয়। তবে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাত হলো, বিশেষ অবস্থায় ছাড়া এমন না বলা।

এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, অন্য কেউ কুফরী করুক এটা কেবল অন্তরে কামনা করা আর তাকে কুফরী কাজে সহযোগিতা করা বা ইসলাম গ্রহণে বাধা প্রদান করা একই বিষয় নয়। কুফরী কাজে সহযোগিতা করা বা ইসলাম গ্রহণে বাধা প্রদান করা সর্বাবস্থায় কুফরী কিন্তু কেবল অন্তরে কারো কুফরী কামনা করা বা তার জন্য কাফির অবস্থায় মৃত্যু চেয়ে বদ দোয়া করার ক্ষেত্রে উপরে আমরা যা উল্লেখ করেছি সেসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রযোজ্য।

কেউ কুফরী করুক কামনা করা বা অন্য কেউ কুফরী করুক এটা কামনা করার বিধান #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুনীর এর প্রবন্ধটি পড়া শেষ হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.